বাড়ির কাজ (হোমওয়ার্ক) করে না আনায় শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত পানি পানের শাস্তি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় শাস্তি পাওয়া ছয় শিক্ষার্থীই কমবেশি অসুস্থ হয়েছে। এর মধ্যে দুজন একটু বেশি অসুস্থ হয়ে নিজ বাসায় অবস্থান করছে। মঙ্গলবার (১১ অক্টোবর) বরিশাল নগরীর কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এই ঘটনা ঘটেছে। অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক (ইংরেজি) মনোয়ারুল ইসলাম মামুনকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
বুধবার দুপুর অসুস্থ শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নিতে বাসায় যান প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ প্রফেসর খোন্দকার অলিউল ইসলাম। এরপর বিকালে ওই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্তসহ কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। একইসঙ্গে সদর উপজেলার ইউএনওকে প্রধান করে এক সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
অভিভাবক শাহানাজ পারভীন ও মাহামুদুন নবী জানান, তাদের দুজনের সন্তান বর্তমানে বাসায় রয়েছে। অতিরিক্ত পানি পান করানোর কারণে আজ স্কুলে যেতে পারেনি। এক অভিভাবক স্কুলে গিয়ে ওই ইংরেজি শিক্ষকের বিরুদ্ধে তার ছেলেকে বেশি পানি পান করানোর লিখিত অভিযোগ দেন।
তারা আরও বলেন, সন্তানরা ভয়ে বিষয়টি বাসায় এসে বলেনি। এরপর জিজ্ঞাসা করলে জানায়, মঙ্গলবার ইংরেজি ক্লাসে হোমওয়ার্ক করে নিয়ে না যাওয়ায় মামুন স্যার পানি পানের শাস্তি দেন। যে সময় বমি বমি ভাব এলে তারা থেমে যায়। এ কারণে অসুস্থ হয়ে আজ স্কুলে যেতে পারেনি। বিষয়টি জানার পর অধ্যক্ষ বাসায় এসে তাদের খোঁজখবর নেন।
অধ্যক্ষ খোন্দকার অলিউল বলেন, এক অভিভাবক অভিযোগ দেওয়ার পরই তিনি বিষয়টি জানতে পারি। এরপর শাস্তিপ্রাপ্ত ছয় জনের মধ্যে দুজন ক্লাসে না আসায় তাদের বাসায় গিয়ে দেখে এসেছি। এখন তারা সুস্থ আছে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষক মনোয়ারুল ইসলাম মামুনকে সাময়িক বরখাস্তসহ কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সদর উপজেলা ইউএনওকে তদন্ত কর্মকর্তা করে কমিটি করা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অভিযুক্ত শিক্ষক মনোয়ারুল ইসলাম মামুন দাবি করেন, শাস্তি নয়, অনেকটা ফান (মজা) করে তাদেরকে পানি পান করতে বলেছি। তারা এতটা পানি পান করবে তা আমি বুঝতে পারিনি। আর পানি ওদের নিজেদের ব্যবহৃত পট থেকেই পান করেছে।