ভোলায় বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা উপলক্ষে নুডলস পার্টির দ্বন্দ্বের জের ধরে আর্জেন্টিনা সমর্থক মো. হৃদয় খুন হওয়ার ঘটনায় গ্রেফতার তিন আসামির রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৮ ডিসেম্বর) বিকালে তাদেরকে আদালতে নিয়ে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। এর আগে বিকাল ৫টার দিকে এ ঘটনায় চার জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তার রিমান্ড চাওয়া হয়নি।
ভোলা সদর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুল্লাহ আল মামুন রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
এর আগে বুধবার রাতে এ ঘটনায় ভোলা সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন নিহত হৃদয়ের বাবা ইব্রাহিম খলিল। মামলায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ১০-১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পরিদর্শক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, মামলা হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত চার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের আদালতে তোলা হয়। এর মধ্যে একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তিন জনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ৩ ডিসেম্বর বিশ্বকাপ ফুটবলের আর্জেন্টিনা-অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার ম্যাচের আগে সদর উপজেলার চেউয়াখালী গ্রামের আর্জেন্টিনার সমর্থকরা নুডলস পার্টির আয়োজন করেন। এ নিয়ে আর্জেন্টিনা সমর্থক মো. আশিকের পক্ষের সঙ্গে মো. আকবরের পক্ষের কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় আশিক আকবরকে চড় মারেন। এ ঘটনা কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে ইয়ামিন নামের একজনের মাথা ফেটে যায়।
এ ঘটনার জেরে গত মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে ধনিয়ার চেউয়াখালী এলাকায় তাফসির মাহফিল চলাকালে আকবরের পক্ষ বহিরাগত যুবকদের নিয়ে এসে আশিকের পক্ষের ওপর হামলা করে। এতে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ হয়। প্রায় এক ঘণ্টার সংঘর্ষে আশিকের পক্ষের তালহা, হৃদয়, আশিক রুবেল এবং আকবরের পক্ষের আকবর, মহিউদ্দিন, নয়ন, শাহাবুদ্দিন ও অলি আহত হন। আহতদের মধ্যে সাত জনকে রাত ১১টার দিকে ভোলার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
একই ঘটনায় আহত হৃদয়কে বুধবার ভোর ৫টা ২০ মিনিটে ভোলার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সকাল সাড়ে ৬টার দিকে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। নিহত হৃদয় (২০) উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ভ্যানচালক ইব্রাহীম হোসেনের ছেলে।