ছাত্রলীগ করায় পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ছেলে আলিফ মাহমুদ রুদ্রের (২২) সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়েছেন বাবা। মঙ্গলবার (২৩ মে) বিকাল ৩টার দিকে দেওয়া স্ট্যাটাসে বাবা রাসেল মোল্লা উল্লেখ করেছেন, অবাধ্য হয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িত থাকায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রাসেল মোল্লা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও কলাপাড়া রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক। আলিফ তার বড় ছেলে। তিনি কলাপাড়া পৌর শহরের ৬নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। বরিশালের আঞ্চলিক দৈনিক আজকাল পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কাজ করছেন।
স্ট্যাটাসে এই বাবা লেখেন, ‘প্রিয় কলাপাড়াবাসী আসসালামু আলাইকুম। আমার ছেলে আলিফ আমার সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িত হওয়ার কারণে তাকে আমার পরিবার থেকে ত্যাজ্যপুত্র ঘোষণা করলাম। আজ থেকে আমার পরিবারের কোনও সদস্যের সঙ্গে তার সম্পর্ক নেই। আমি নিজেও কোনও দলের সঙ্গে জড়িত নই। আগামীতেও জড়িত হবো না।’
সূত্র জানায়, কলাপাড়া ইসমাইল তালুকদার টেকনিক্যাল কলেজ থেকে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করা আলিফ ৬নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তার বাবা স্বেচ্ছাসেবক দলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। চাচা রফিকুল ইসলাম কলাপাড়া পৌর যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক।
রাসেল মোল্লা বলেন, ‘ছেলের জ্বালায় অতিষ্ঠ হয়ে গেছি। আগে রাজনীতি করতাম এখন পছন্দ করি না। সে ছাত্রলীগের রাজনীতি করুক সেটা চাই না। এই জন্য তাকে ত্যাজ্যপুত্র ঘোষণা করেছি। শিগগিরই কাগজে কলমে ত্যাজ্য করা হবে।’
আলিফ মাহমুদ রুদ্র বলেন, ‘বাবার বাসায় থাকি না। ছোটবেলা থেকেই ছাত্রলীগ পছন্দ করি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে ধারণ করে বেঁচে থাকতে চাই। ছাত্রলীগের রাজনীতি করি, এ জন্য আহত হয়েছি কয়েকবার। পরিবারের সঙ্গে আমার অনেক আগে থেকেই ভালো সম্পর্ক নেই। আমি ছাত্রলীগের নিবেদিত প্রাণ।’
পটুয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ত্যাজ্য করার বিষয়টি তাদের পারিবারিক। তারপরও আলিফ যদি ছাত্রলীগের জন্য নিবেদিত প্রাণ হয়ে থাকে মূল্যায়ন করা হবে। লাখ লাখ ছাত্রলীগের কর্মী বাংলাদেশে রয়েছে, তাদের বাবারা সন্তানদের নিয়ে গৌরব করেন।’