নানক-নাছিমের সামনে খোকনকে বুকে টেনে নিলেন হাসানাত

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সিনিয়র সদস্য ও বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, ‘আমার ছোট ভাই বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী আবুল খায়ের আব্দুল্লাহকে নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন।’ এ সময় তার হাত উঁচিয়ে ধরে সবার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনারা ওয়াদা করেন, সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে নৌকায় ভোট দিয়ে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করবেন’।

এর আগে হাসানাত আব্দুল্লাহ বরিশাল বিভাগের ছয় জেলা থেকে আসা উপজেলা চেয়ারম্যান, মেয়র, চেয়ারম্যান ও বিভিন্ন পর্যায়ের দলীয় নেতাদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা মহানগর ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে প্রচারণায় থাকবেন। একইসঙ্গে আপনাদের আত্মীয়স্বজন যারা ভোটার তাদের ভোটদানে উৎসাহিত করবেন।’

শনিবার (৩ জুন) বিকালে গৌরনদীতে বরিশাল বিভাগের পাঁচ জেলার সমন্বয়ে বিশেষ বর্ধিত সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সভার শেষ পর্যায়ে উপস্থিত কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের সামনে খোকন সেরনিয়াবাতকে বুকে টেনে নেন আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ।

দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘বরিশাল সিটি নির্বাচনের আর মাত্র আট দিন বাকি। আপনারা নগরীতে থাকা আপনাদের আত্মীয়স্বজনের ভোট নৌকা প্রতীকে দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানাবেন। আপনারাই পারেন খোকন সেরনিয়াবাতকে বিজয়ী করতে। আমাদের মধ্যে ফাঁকফোকর যতই থাকুক তা ভুলে নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী করতে হবে।’

নানক বরিশাল বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। বিশেষ করে ফেরির যুগের অবসানের বিষয়টি মনে করিয়ে দেন জেলার নেতৃবৃন্দকে। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নের কারণে বরিশালবাসী বিপুল ভোটে খোকন সেরনিয়াবাতকে বিজয়ী করবে।’ সবাইকে ভোটের মাঠে থাকার আহ্বান জানিয়ে সেখানে উপস্থিত কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে এমন অনুষ্ঠানের জন্য ধন্যবাদ জানান।

সভায় আরও বক্তব্য দেন মেয়র প্রার্থী আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ (খোকন সেরনিয়াবাত), প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রহমান, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহমেদ, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য আনিসুর রহমান ও গোলাম কবির রাব্বানি চিনু।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন- ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী ও ভোলা জেলার উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র ও জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। তবে দুই ভাইয়ের মিলে যাওয়ায় দীর্ঘদিনের জটবাঁধা সমস্যার অনেকটা সমাধান হয়েছে বলে মনে করছেন কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। এ কারণে খোকন সেরনিয়াবাতের ভোটের মাঠে দলীয় যে সমস্যা ছিল তা অনেকাংশে দূর হচ্ছে বলেও আশা আওয়ামী লীগের।