বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি) নির্বাচনে একই ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে চাচির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ভাতিজা। আগামী ১২ জুন বরিশাল সিটি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে। এখন প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। এবার সিটি নির্বাচনের ৩০টি সাধারণ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে লড়ছেন ১১৬ জন। আর সংরক্ষিত ১০টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে লড়ছেন ৪২ জন।
এর মধ্যে নগরীর ১৬ নম্বর ওয়ার্ড থেকে সাধারণ কাউন্সিলর পদে লড়ছেন সাবেক কাউন্সিলর মৃত মোশারফ আলী খান বাদশার স্ত্রী রুবিনা আক্তার। তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তারই ভাতিজা বর্তমান কাউন্সিলর রাজিব হোসেন খান। এর মধ্যে চাচির প্রতীক রেডিও এবং ভাতিজার প্রতীক মিষ্টি কুমড়া।
একই ওয়ার্ডে চাচি-ভাতিজা প্রার্থী হওয়ায় নগরীতে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। তবে বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন প্রার্থীরা।
১৬ নম্বর ওয়ার্ডে চাচি রুবিনা আক্তারের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা রাজিব হোসেন খান বলেন, ‘নির্বাচন গণতান্ত্রিক অধিকার। যে কেউ অংশ নিতে পারেন। সেক্ষেত্রে আমার বাবাও যদি নির্বাচনে অংশ নিতেন আমিও প্রতিদ্বন্দ্বী হতাম। এখন যাকে খুশি তাকে নির্বাচিত করবেন ভোটাররা।’
এই ওয়ার্ড থেকে আমি একবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছি উল্লেখ করে রুবিনা আক্তার বলেন, ‘আমার স্বামী তিনবার এখান থেকে কাউন্সিলর হয়েছেন। তার মৃত্যুর পর তিন মাসের জন্য রাজিব বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় কাউন্সিলর হন। আমার স্বামী ৩০ বছরে এলাকার অনেক উন্নয়ন করেছেন। কিন্তু রাজিব দায়িত্ব নিয়ে কিছুই করতে পারেননি। ফলে তফসিল ঘোষণার পর এলাকাবাসী আমাকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অনুরোধ জানান। এ ছাড়া ওয়ার্ডবাসী স্বামীকে যথেষ্ট ভালো জানতেন। তাদের অনুরোধে আমি প্রার্থী হয়েছি। প্রার্থী হওয়ার পর একাধিকবার রাজিবকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর অনুরোধ করেছি। কিন্তু কাজ হয়নি। তবে আমার বিশ্বাস, ওয়ার্ডবাসী আমার স্বামীকে ভালোবেসে যেভাবে তিনবার সুযোগ দিয়েছেন, একইভাবে এবার আমাকে কাউন্সিলর নির্বাচিত করবেন।’
নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডের মধ্যে সাধারণ কাউন্সিলর পদে একমাত্র নারী প্রার্থী রুবিনা। এই ওয়ার্ড থেকে সাধারণ কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ছয় প্রার্থী।