পিরোজপুরে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে কুপিয়ে হত্যা: গ্রেফতার ৩

পিরোজপুরে স্বেচ্ছাসেবক দলের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক লালন ফকির হত্যার ঘটনায় করা মামলায় তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন বাবু শেখ, সবুজ ও জাহিদ। পিরোজপুর সদর থানার ওসি মো. আশিকুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, গত শনিবার সন্ধ্যার পরে পিরোজপুর সদর উপজেলার শারিকতলা-ডুমরিতলা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কার প্রার্থী শ ম রেজাউল করিমের নির্বাচনি অফিসে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক লালন ফকির ও তার সহযোগীদের দায়ী করে নৌকার সমর্থকরা। হামলায় বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাঙচুর করা হয়।

এ হামলার ঘটনার পরে ওই রাতে ২০/২৫ জন লোক লালনকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। এরপর রাতেই লালন ফকিরকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে খুলনা ও পরে ঢাকায় চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার (১১ ডিসেম্বর) রাতে লালনের মৃত্যু হয়।

ঢাকায় লালনের মৃত্যুর খবর পিরোজপুরে পৌঁছালে তাকে (লালন ফকির) যুবলীগ কর্মী দাবি করে রাতেই যুবলীগ ও ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারা শহরে বিক্ষোভ মিছিল করে লালনের হত্যার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি দাবি করেন।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিহত লালন ফকির পিরোজপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক। তার বাবার নাম হান্নান ফকির। ২০২০ সালের ৪ এপ্রিল কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের অনুমোদিত পিরোজপুর জেলা কমিটির শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে তার (লালন ফকির) নাম রয়েছে। সেখানে তার মোবাইল নম্বরও উল্লেখ রয়েছে।

উল্লেখ্য, পিরোজপুর-১ আসনে বর্তমান এমপি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হয়েছেন। অপরদিকে এ আসনের সাবেক এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম এ আউয়াল স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। নিহত লালন ফকির স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা হলেও তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী এ কে এম এ আউয়ালের সমর্থক ছিলেন বলে জানা গেছে।

এদিকে, লালন ফকির নিহত হওয়ার ঘটনায় উত্তেজনা দেখা দেওয়ায় শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পিরোজপুর সদর থানার ওসি মো. আশিকুজ্জামান জানান, লালন নিহত হওয়ার ঘটনায় পিরোজপুর সদর থানার উপপরিদর্শক মাকসুদুর রহমান বাদী হয়ে ৫ জন নামীয় ও অজ্ঞাতনামা ৫ থেকে ৭ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন।