বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সভাপতির কক্ষে দুই চিকিৎসকের মধ্যে বাগবিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। এতে করে দুই গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন চিকিৎসকেরা। সমস্যার সমাধানে তাৎক্ষণিক বৈঠক করেছেন হাসপাতালের পরিচালক।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার (৯ জুলাই) দুপুরে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতির ১৪৭ নম্বর কক্ষে চিকিৎসকদের বৈঠক চলছিল। ওই বৈঠকে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. রেজওয়ানুর আলম ওয়ার্ডে প্রফেসরদের রাউন্ডে না যাওয়ার বিষয়টি উত্থাপন করেন। এ সময় শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজের উপাধ্যক্ষ ও সার্জারি ইউনিট প্রধান ডা. নাজিমুল হক তাকে ভর্ৎসনা করেন। এ নিয়ে দুই চিকিৎসকের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়।
একপর্যায়ে উপস্থিত চিকিৎসকেরা তাদের নিবৃত্ত করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েন কলেজ হাসপাতালে শিক্ষকেরা। একপর্যায়ে সহকারী পরিচালক তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাজিমুল হকের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে উভয় পক্ষকে নিয়ে বৈঠকে বসেন হাসপাতালের পরিচালক।
শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রফেসর রয়েছেন ৬ জন। ক্লাস নেওয়ার পাশাপাশি হাসপাতালে ওয়ার্ডে রাউন্ডের দায়িত্ব রয়েছেন তারা। কিন্তু বেশির ভাগ সময় তাদের অনুপস্থিতির কারণে রোগীদের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হয়। বিষয়টি নিয়ে কথা বলায় এ ধরনের বাগবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
শের ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের (অর্থ ও ভান্ডার) সহকারী পরিচালক ডা. রেজওয়ানুর আলম বলেন, ‘বৈঠকে উপাধ্যক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেছিলাম প্রফেসর পর্যায়ে যারা আছেন তাদের ওয়ার্ডে রাউন্ডের বিষয়টি। এতে করে উপাধ্যক্ষ উত্তেজিত হয়ে পড়েন। এ সময় আমিও কিছু কথা বলে ফেলি। ওয়ার্ডে রাউন্ডে প্রফেসরদের যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্যই মূলত বিষয়টি উত্থাপন করি। উপাধ্যক্ষের দাবি হচ্ছে, প্রফেসররা প্রতিদিনই রাউন্ডে আসেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘হাসপাতালের যাতে দুর্নাম না হয়। যারা সেবা নিতে এসেছেন তারা যেন চিকিৎসা পায় সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে চাচ্ছিলাম। এর বেশি কিছু নয়। যখন বলি তাদের রাউন্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে তখন উপাধ্যক্ষ উত্তেজিত হয়ে পড়েন। হয়তো আমিও কিছুটা উত্তেজিত হয়েছি। উপাধ্যক্ষ মুরুব্বি মানুষ, তিনি হয়তো আমার উত্তেজিত হওয়ার বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি।’
তবে এ বিষয়ে কোনও কথা বলতে রাজি হননি উপাধ্যক্ষ ও সার্জারি বিভাগের প্রধান ডা. নাজিমুল হক।
শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচ এম সাইফুল ইসলাম বিষয়টিকে দুঃখজনক অবহিত করে বলেন, ‘উপাধ্যক্ষের সঙ্গে সহকারী পরিচালকের কথা-কাটাকাটি হয়েছে। বিষয়টি জানার পর সকলকে নিয়ে বৈঠক করে সমাধানে এসেছি।’