বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সহযোদ্ধার বাসভবন

‘ভালো লাগা থেকে সাইনবোর্ডটি লাগিয়েছি, বিরক্ত করায় খুলেছি’

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আন্দোলনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছেন দাবি করে বাড়ির গেটে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সহযোদ্ধার বাসভবন’ লেখা সংবলিত সাইনবোর্ড লাগিয়ে দিয়েছেন ইলিয়াস হোসেন নামে এক ব্যক্তি। তবে এর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হওয়ায় ‘বিরক্ত হয়ে’ তিনি সেটি খুলে ফেলেছেন।

ইলিয়াস হোসেন পটুয়াখালীর কাজীপাড়া এলাকার বাসিন্দা। গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন হলে তিনি বাসার ফটকে সাইনবোর্ডটি লাগিয়ে দেন।

পটুয়াখালী চক্ষু হাসপাতালের সামনের সামনে ইলিয়াস হোসেনের বাসা। আর বাসার সামনে ঢোকার গেটের ওই সাইনবোর্ডে লেখা ‘বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের-২০২৪ এর অন্যতম সহযোদ্ধার বাসভবন’। এতে নিচে ঠিকানা লেখা রয়েছে- কাজীপাড়া, পটুয়াখালী।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইলিয়াস কাজীপাড়া এলাকার আব্দুস সত্তার মজুমদারের ছেলে। তিনি বর্তমানে ঠিকাদারি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। গত ৩ ও ৪ ও ৫ আগস্ট পটুয়াখালীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবির আন্দোলনে মেয়েকে নিয়ে যোগ দিয়েছেন।

এ বিষয়ে ইলিয়াস দাবি করেন, ‘পটুয়াখালীতে আন্দোলন করেছি, চৌরাস্তা থেকে শহীদ মিনার ছিল আমাদের দখলে ছিল। আমরা সবাই একত্রে ছিলাম, এক সারিতে ছিলাম। আমার মেয়েও এই আন্দোলনের শুরু থেকে যোগ দিয়েছে। সে পটুয়াখালী সরকারি কলেজে পড়ে।’

তিনি বলেন, ‘বাসার সামনে সাইনবোর্ড দেওয়ার কারণ হলো, ভালো লাগা থেকে। গত ৫ আগস্টের পর এই সাইনবোর্ড দিয়েছি। তবে মানুষ বিরক্ত করার কারণে সাইনবোর্ড সরিয়ে ফেলেছি।’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করা সজিবুল ইসলাম সালমান বলেন, ‘তিনি আমাদের কমিটিতে ছিলেন না। তবে আন্দোলনে ছিল কি না জানি না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আন্দোলন চলাকালে আমাদের কমিটি গঠন করা হয়েছিল অল্প কয়েকজনকে নিয়ে। তখন ঝামেলা এড়াতে ওই কমিটিতে তেমন কেউ যুক্ত হতে চাননি। তবে অনেকেই আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন। ৫ আগস্টের পরে ওই কমিটিতে অনেকেই যুক্ত হতে চায়। এতে ভুল বুঝাবুঝি হলে কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।’