বরিশালে এ বছরও এগিয়ে মেয়েরা, নেই শতভাগ ফেল করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তি উভয় ক্ষেত্রে এগিয়ে মেয়েরা। বোর্ডের অধীন এ বছর এইচএসসিতে ৬৬ হাজার ৮৭ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে পাস করেছেন ৫৪ হাজার ৮৯ জন। এর মধ্যে ছাত্রী ২৯ হাজার ৭২২ জন এবং ছাত্র ২৪ হাজার ৩৬৭ জন। পাসের হার ৮১ দশমিক ৮৫।

জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪ হাজার ১৬৭ জন। এর মধ্যে ছাত্রী ২ হাজার ৮০৪ জন এবং ছাত্র ১ হাজার ৩৬৩ জন।

বোর্ডের ছয় জেলার ৩৪১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২১টি প্রতিষ্ঠানের শতভাগ পাস করেছে। এ ছাড়া ৫০ শতাংশের ওপরে পাস করেছে ২৮৮টি কলেজের শিক্ষার্থী এবং ৫০ শতাংশের নিচে ৩০টি কলেজ, ২০ শতাংশের নিচে দুটি এবং ১৫ শতাংশের নিচে একটি কলেজের পরীক্ষার্থী পাস করে। এ বোর্ডের অধীন কোনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নেই যেখানে একজনও পাস করেনি।

বরিশাল বিভাগে পাসের হারে এগিয়ে ঝালকাঠী জেলা। ৩১টি কলেজ থেকে ৪ হাজার ৭৩৬ জন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে পাশ করেছেন ৪ হাজার ৮৮ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২২০ জন। পর্যায়ক্রমে ভোলা জেলায় ৫৬টি কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন ১০ হাজার ৯৭৯ জন। এর মধ্যে পাস করেছেন ৯ হাজার ২৬২ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৭২০ জন। বরিশাল জেলায় ১০৬টি কলেজ থেকে ২৩ হাজার ৫৮৪ জন অংশগ্রহণ করে পাস করেছেন ১৯ হাজার ৭৯৬ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ১৪৮ জন। পিরোজপুর জেলায় ৪৬টি কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন ৭ হাজার ৮০০ জন। পাস করেছেন ৬ হাজার ৪৬৯ জন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৪৩ জন। বরগুনায় ৩৪ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ৬ হাজার ৭১০ জন অংশ নিয়ে পাস করেছেন ৫ হাজার ৩০২ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২৮৩ জন। এ ছাড়া পটুয়াখালী জেলায় ৬৯টি কলেজ থেকে ১২ হাজার ২৫৮ জন অংশ নিয়ে পাস করেছেন ৯ হাজার ১৭২ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩৫৩ জন।

জিপিএ-৫ প্রাপ্ত একাধিক শিক্ষার্থী জানান, যারা এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ফলাফলে তাদের কোনও প্রভাব পড়েনি। কারণ তাদের জিপিএ-৫ নিশ্চিত হয়েছে আগেভাগে। কিন্তু যারা অল্পের জন্য এসএসসিতে জিপিএ-৫ পায়নি, প্রস্তুতি ছিল এইচএসসিতে ভালো করার। তাদের জন্য বড় ক্ষতি হয়ে গেলো।

তারা আরও বলেন, ‘চাকরি ক্ষেত্রে যেন কোনোভাবে ২০২৪ সালের এইচএসসিকে অটোপাস হিসেবে দেখা না হয়। স্বাভাবিক শিক্ষার্থীদের মতো করে তাদের দেখার অনুরোধ।’

সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘অটোপাস শিক্ষার্থীদের শিক্ষা এবং চাকরিজীবনে কোনও প্রভাব ফেলবে না। এইচএসসি পরীক্ষা সব দিতে হলে তাদের ওপর দুটি চাপ কাজ করতো। একটা হচ্ছে পরীক্ষা শেষে ভালো ফলাফল। অপরটি হচ্ছ ভালো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির চাপ। এক্ষেত্রে তাদের ওপর এ বছর একটি চাপ কাজ করেছে। তা হচ্ছে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির চাপ। এটা তাদের বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রস্তুতির জন্য অনেক ভালো হয়েছে। আর যারা মেধাবী তারা অটোপাস করলেও তাদের প্রস্তুতি ছিল ভালো ফলাফলের।’

বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ইউনুস আলী সিদ্দিকী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অটোপাস কোনোভাবেই শিক্ষার্থীদের ওপর প্রভাব ফেলবে না। ভালো ফলাফলের কৃতিত্ব শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের।’