আ.লীগের যারা অপরাধ করেননি, তাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব সরকারের: ফয়জুল করীম

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির ও বরিশাল-৫ ও ৬ আসনের প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম বলেছেন, ‌‘আওয়ামী লীগ যারা করেন, তাদের নাগরিকত্ব বাতিল করেনি সরকার, আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। তবে যদি আওয়ামী লীগের কোনও ব্যক্তি অন্যায় না করেন এবং কোনও মামলা না থাকে, তাহলে তার নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব সরকারের।’

বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে বরিশাল প্রেসক্লাবে ইসলামী আন্দোলনের উদ্যোগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। 

সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম বলেন, ‘পুরোনো বন্দোবস্ত দেশের শান্তিশৃঙ্খলা ও সমৃদ্ধি আনতে পারেনি, সামাজিক ন্যায়বিচার ও ইনসাফ কায়েম করতে পারেনি, দেশের টাকা বিদেশে পাচার রোধ করা যায়নি। আমাদের লক্ষ্য, দেশে সব ক্ষেত্রে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা, কোরআন ও সুন্নাহর আইন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি কল্যাণ রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তোলা।’

তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি, প্রশাসন কোনও একটি দলের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। এ দেশের মানুষের মধ্যে সন্দেহ ও প্রশ্ন জেগেছে, এই প্রশাসন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট উপহার দিতে পারবে কিনা। এজন্য প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বলবো, আপনারা কোনও বিশেষ দলের দিকে ঝুঁকে পড়বেন না। কালো টাকা, সন্ত্রাসী ও অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার রোধে ব্যবস্থা নিন।’

এখনও অনেককে আওয়ামী লীগ ট্যাগ দিয়ে গ্রেফতার ও হয়রানি করা হচ্ছে মন্তব্য করে ফয়জুল করীম বলেন, ‘গণহারে করা মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামি হিসেবে লোকজনকে গ্রেফতার করা হচ্ছে, এটা আর করা যাবে না। সুষ্ঠু নির্বাচন করতে হলে সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করে এসব বন্ধ করতে হবে।’

আওয়ামী লীগের ভোটাররা কাদের ভোট দেবেন এমন এক প্রশ্নের জবাবে ফয়জুল করীম বলেন, ‘যাদের মাধ্যমে জানমাল, ইজ্জত ও ব্যবসা-বাণিজ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, তারাই জনগণের ভোট পাবেন। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকরাও সেই প্রার্থীকে ভোট দেবেন, যাদের কাছে তারা নিজেদের নিরাপদ মনে করবেন।’ 

জামায়াতের সঙ্গে জোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জোট হয়নি। তবে জামায়াতের আমিরের সম্মানার্থে তার আসনে ইসলামী আন্দোলন প্রার্থী দেয়নি। তারাও আমাদের সম্মান করে তাদের প্রার্থী তুলে নিয়েছেন, এজন্য ধন্যবাদ জানাই।’

ইসলামী আন্দোলন নতুন কোনও জোটে যাবে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ফয়জুল করীম বলেন, ‘নতুন করে কোনও জোটে যাওয়ার এখন সুযোগ নেই। তবে ভবিষ্যতে ইসলামি শরিয়াহর ভিত্তিতে যদি কেউ আইন প্রণয়ন করতে চায়, তাহলে আবারও জোট হতে পারে।’