পটুয়াখালীর বাউফলে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে দুই দফায় হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা সদরের পাবলিক মাঠে এ ঘটনা ঘটে। উপজেলা প্রশাসন পাবলিক মাঠে সমাবেশ ও কুচকাওয়াজের আয়োজন করে। ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল ৮টায় অনুষ্ঠান শুরু হয়। এর আগেই অতিথিদের জন্য রাখা সামনের সারির আসনে বসে ছিলেন উপজেলা জামায়াতের আমির ইসাহাক মিয়া, সেক্রেটারি খালিদুর রহমানসহ কয়েকজন। অনুষ্ঠান শুরুর আগমুহূর্তে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য সহিদুল আলম তালুকদারের নেতৃত্বে ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল মিছিল করে মাঠে প্রবেশ করে। সহিদুল আলম ও তার স্ত্রী সালমা আলম সামনের সারির নির্ধারিত আসনে বসেন। চেয়ার খালি না থাকায় বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সামনের সারিতে বসতে পারেননি। এ সময় উত্তেজিত হয়ে যান উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল্লাহ আল ফাহাদ। একপর্যায়ে ফাহাদ সামনের সারির চেয়ারে বসা ঢাকার পল্টন থানা জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদ সদস্য মুজাহিদুল ইসলামকে চেয়ার থেকে উঠে যেতে বলেন। এর প্রতিবাদ করেন জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মাহফুজ হোসেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়।
বাউফল থানার পরিদর্শক আতিকুল ইসলাম ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সোহাগ মিলু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। একটু পরই আবার ছাত্রদল নেতা ফাহাদ জামায়াতের কর্মী অহিদুজ্জামানের সঙ্গে তর্কে জড়ান এবং ফাহাদ ও তার লোকজন অহিদুজ্জামানকে মারধর করেন। তখন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ পুলিশ সদস্যদের সহায়তায় পরিস্থিতি শান্ত করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালেহ আহমেদ বলেন, স্বাধীনতা দিবসের মতো একটি জাতীয় অনুষ্ঠানে এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। অনুষ্ঠানের আয়োজক হিসেবে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করলে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না।