ব্রিজে রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে ঢালাই

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় একটি আয়রন ব্রিজে রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে ঢালাই দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ব্রিজ নির্মাণে রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি দেওয়ার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে উপজেলাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হলেও কোনও পদক্ষেপ নেয়নি উপজেলা এলজিইডি বিভাগ। গত মঙ্গলবার উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের বারপাইকা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
 
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের দুশমী-করিম বাজার খালের ওপর বারপাইকা গ্রামের রুহুল হোসেনের বাড়ি সামনে ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে একটি আয়রন ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। ওই ব্রিজটি ৪৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও সাড়ে পাঁচ ফুট প্রশস্ত। ব্রিজটি নির্মাণে সরকারি কোনো নিয়ম নীতিকে তোয়াক্কা করা হয়নি।  অনিয়মের কারণে স্থানীয়রা ঢালাইয়ের সময় বাধা দিলে, ব্রিজের উত্তর পাড়ে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে মঙ্গলবার ঢালাই সম্পন্ন করা হয়।

ব্রিজ দিয়ে যাতায়াতকারী মো. হিমু মোল্লা ও ইদ্রিস মোল্লা বলেন, ‘রত্নপুর ইউনিয়ন পরিষদ ব্রিজটি ঢালাইয়ের জন্য সম্প্রতি টাকা বরাদ্দ দেয় ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লাকে। ব্রিজটি ৫৫ ফুট দৈর্ঘ্য হলেও সেখানে ঢালাই দিয়েছে ৪৫ ফুট। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে।’

তবে অনিয়মের বিষয় অস্বীকার করে ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লা বলেন, ‘বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে ৪৫ ফুট ব্রিজের বাইরে। আর এটা আমরা করিনি, করেছেন স্থানীয় লোকজন।’

এ বিষয়ে রত্নপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা সর্দার বলেন, ‘ওই স্থানে ব্রিজ নির্মাণের জন্য প্রথম পর্যায়ে দেড় লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। সম্প্রতি ঢালাইয়ের জন্য এক লাখ টাকা দেওয়া হয়। ফলে অর্থের কোনও ঘাটতি হয়নি। এরপরও ঠিকাদার স্থানীয় মেম্বার সোহেল মোল্লা স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে ৮৫ হাজার টাকা চাঁদা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন বলে শুনেছি। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, তারা দীর্ঘদিন ধরে ওই স্থানে ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন। এজন্য সম্প্রতি স্থানীয় মেম্বার সোহেল তাদের কাছ থেকে ব্রিজ নির্মাণ বাবদ চাঁদা উত্তোলন করেন। তারা বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরেছেন ৮৫ হাজার টাকার ওপরে তিনি গ্রামবাসীর কাছ থেকে টাকা উত্তোলন করে তা আত্মসাৎ করেন। এমনকি ওই স্থানে ব্রিজ নির্মাণে ইউনিয়ন পরিষদের কাছ থেকেও দুই কিস্তিতে আড়াই লাখ টাকা বরাদ্দ আনেন। এরপরও ভালোভাবে ব্রিজ নির্মাণ করলে তাদের কোনও আপত্তি ছিল না। ব্রিজটির ঢালাই সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ৫ ইঞ্চি হওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হয়েছে সাড়ে ৩ ইঞ্চি। এ ছাড়া দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে নির্দিষ্ট দূরত্বে রড দেওয়ার নিয়ম থাকলেও ঠিকাদার ১ ফুট পর পর নামমাত্র রড ব্যবহার করেছেন।’

এলজিইডির আগৈলঝাড়া উপজেলা প্রকৌশলী রবীন্দ্র চক্রবর্তী বলেন, ‘নিম্নমানের ব্রিজ নির্মাণের বিষয়টি জানতে পেরেছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। সরেজমিনে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বনিক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং গণমাধ্যমকর্মীদের কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পেরেছি। মঙ্গলবার পহেলা বৈশাখের বন্ধ থাকায় সরেজমিনে লোক পাঠানো যায়নি। এর মধ্যে ঘটনাটি ঘটেছে। সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’