ঘরের পাশে রাখা বালুভর্তি বস্তায় বোমা বিস্ফোরণ, মা-মেয়েসহ ৩ জন দগ্ধ

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় ঘরের পাশে রাখা বালুভর্তি একটি বস্তায় হঠাৎ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে শিশুসহ তিন জন দগ্ধ হয়েছেন। সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়নের দুধলমৌ গ্রামের শাহ আলম হাওলাদারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন- শাহ আলম হাওলাদারের স্ত্রী হনুফা বেগম (৫০), মেয়ে ইতি আক্তার (২০) ও নাতি ফাহিম হাওলাদার (১৪)। তাদের উদ্ধার করে শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, সকাল ৭টার দিকে শাহ আলম হাওলাদারের বাড়িতে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই শাহ আলমের স্ত্রী হনুফা বেগম, মেয়ে ইতি ও নাতি ফাহিম গুরুতর আহত হন। বিস্ফোরণের শব্দে গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উৎসুক জনতা ঘটনাস্থলে ভিড় জমায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

শাহ আলমের ছেলে জামাল হোসেন বলেন, ‘সকালে আমাদের বাড়ির পাশে রাখা বালুভর্তি একটি বস্তায় হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে আমার মা, বোন ও ভাগনের শরীরে আগুন ধরে যায়। তারা পাশের তুলাতলা নদীতে ঝাঁপ দেন। আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাদের উদ্ধার করেন। প্রথমে তাদের বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এখন সেখানে চিকিৎসাধীন আছেন তারা।’

তিনি বলেন, ‘বালুর বস্তার ভেতরে এই বোমা কোথা থেকে আসলো, এ বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না। কেউ গোপনে এই বোমা রেখে গিয়েছিল কিনা, তা তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে।’

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পঞ্চম তলার পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডের নার্স লিংকন দত্ত বলেন, ‘প্রথমে ওই তিন জন এই ওয়ার্ডে আসার পর দুই নারীকে চারতলার মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডে পাঠানো হয়েছে।’ তবে কে কত শতাংশ দগ্ধ হয়েছেন, সেটা তাৎক্ষণিক তিনি বলতে পারেননি।

খবর পেয়ে র‍্যাব, পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্য ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। তারা বিস্ফোরণের জায়গাটি ঘিরে রেখেছেন। বিষয়টি নিয়ে তারা স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলছেন। বিস্ফোরকটি বোমা ছিল কিনা, সে ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। তবে ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাকেগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল হোসেন।

ওসি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। বোমায় কী ধরনের বিস্ফোরক ব্যবহৃত হয়েছে এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত তদন্ত শেষে তা নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে এবং দায়ীদের শনাক্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত অব্যাহত আছে।’

বরিশালের পুলিশ সুপার এ জেড এম মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘এটি কোন ধরনের বিস্ফোরক, আমরা এখনও নিশ্চিত হতে পারিনি। সেখানে আরও কয়েকটি বালুর বস্তা আছে। তাতে আরও বিস্ফোরক আছে কিনা, তাও বলতে পারছি না। ঢাকায় বোম ডিসপোজাল ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়েছ। তারা ঘটনাস্থলে এসে তদন্ত করবে। পুলিশ সামগ্রিক বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। তবে এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই স্থানীয়দের।’