জামায়াত নেতার এক পোস্টে তোলপাড়, ‌‘আমিররাও ভাগ খায়’?

‘আমিররাও ভাগ খায়’ প্রশ্ন রে‌খে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন কু‌ড়িগ্রা‌মের রৌমারী উপ‌জেলা জামায়াতের এক নেতা। এ নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। র‌বিবার (৯ আগস্ট) দুপুরের দিকে শইমী ইমরান হিকিম নামে ওই জামায়াত নেতা ফেসবুকে তার ব্যক্তিগত আইডি থেকে এমন পোস্ট ক‌রেন।

পোস্টকারী ওই নেতা কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার জামায়াতে ইসলামীর ‘আবু সাঈদ ইউনিট’-এর সাধারণ সম্পাদক। নির্দিষ্ট কোনও নেতার নাম উল্লেখ না করে পদবিকে ইঙ্গিত ক‌রে পোস্ট‌টি দেওয়া হলেও তা জামায়া‌তের উপজেলা আমিরকে ইঙ্গিত করে দেওয়া হয়েছে ব‌লে জানা গে‌ছে।

শইমী ইমরান হিকিম তার স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘আমিররাও ভাগ খায়? ভাগ পায়, ভালোই তো ভাগাভাগির রাজনীতি। সামনে আরও কত কিছু দেখবো। বিকারগ্রস্ত ব্যক্তির দ্বারা সব সম্ভব।’

জামায়াত নেতা ইমরা‌নের পোস্ট‌টি নজরে পড়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের। তার পো‌স্টে উপ‌জেলা আবু সাঈদ ইউনিটের সভাপতি মো. মাহবুব আলম ওই পো‌স্টের মন্ত‌ব্যের ঘ‌রে ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘জামায়াতে ইসলামীর আমির মানে একটা উপজেলার জামায়াত ইসলামের অভিভাবক। সেই অভিভাবক যদি কারও সঙ্গে লিঁয়াজু মেনটেন্ট করে চলে, অন্যায় প্রশ্রয় দিয়ে চলে, জামায়াতের এমপিকে ছোট করার জন্য নিজেকে বড় করে জাহির করে চলে; অন্যায় করলে প্রমাণ না থাকার পরেও বিচার করার হিম্মত বা সাহস না থাকে- তাহলে আমির দিয়েই বা কী হবে?’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘আমরা এমন উপজেলা আমির চাই যে অন্যায়ের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স জারি করবে। যে এমপির সঙ্গে সমন্বয় করে এলাকার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। জামায়াতের প্রতিটি কর্মীকে মূল্যায়ন করবে। কারও অবৈধ ইনকামের ভাগিদার হবে না। এমপিকে ভাশুর মনে করে মিলেমিশে এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে জোটবদ্ধভাবে কাজ করবে। আপনারা কী আগামীতে এমন উপজেলার আমির চান?’

একই পো‌স্টে দলীয় ভাগাভাগির ইঙ্গিত দিয়ে মেহেদি হাসান মিথুন নামে আরেক জামায়াত কর্মী মন্তব্য ক‌রেন, ‘ ৬০%-৪০% খাওয়া-দাওয়া বেশ হচ্ছে।’

জামায়াত নেতা শইমী ইমরান হিকিমের সঙ্গে মেসেঞ্জা‌রে যোগা‌যো‌গ ক‌রে পো‌স্টের বিষ‌য়ে জান‌তে চাই‌লে তি‌নি কোনও সাড়া দেন‌নি।

শইমী ইমরান হিকিমের ফেসবুক পোস্ট

তবে উপজেলা জামায়াতের আমির হায়দার আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাকে উদ্দেশ্য করেই তারা ফেসবুকে এই স্ট্যাটাস ও মন্তব্য পোস্ট দিয়েছেন। তবে আমি কোনও ধরনের ভাগাভাগি বা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নই। বরং এমপির প্রতিনিধি হিসেবে তারা নিজেরা নানা অনিয়ম করেছেন, যার প্রমাণ পাওয়া গেছে। হয়তো সেই কারণেই ক্ষুব্ধ হয়ে তারা এসব ফেসবুকে লিখছেন ও মন্তব্য করছেন।’

জামায়া‌তের এই নেতা আরও ব‌লেন, ‘বিষয়টি ইতোমধ্যে জেলা নেতৃত্বকে অবহিত করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা জামায়া‌তের আ‌মির আ‌জিজুর রহমান স্বপন বাংলা ট্রিবিউনকে ব‌লেন, ‘বিষয়‌টি জে‌নে‌ছি। এ বিষ‌য়ে তদন্ত ক‌মি‌টি করা হ‌বে। যে প‌ক্ষেই ত্রু‌টি পাওয়া যা‌বে সে প‌ক্ষের বিরু‌দ্ধেই সাংগঠ‌নিক ব্যবস্থা নেওয়া হ‌বে। সে‌ক্ষেত্রে উপ‌জেলা আ‌মি‌রের বিরু‌দ্ধে অ‌ভি‌যো‌গের সত্যতা পে‌লে তা‌কেও ছাড় দেওয়া হ‌বে না।’

প্রসঙ্গত, জামায়াত নেতা শইমী ইমরান হিকিমের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া অপর জামায়াত নেতা মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক ও শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার আইনজীবী রায়হান কবীরের ওপর হামলা, গরু নিলাম প্রক্রিয়ায় চাঁদাবাজি এবং ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের মারধরের অভিযোগ রয়েছে।