১১ ঘণ্টায়ও খোঁজ পাওয়া যায়নি স্কুলছাত্রী জুঁইয়ের

বরগুনায় পায়রা নদীতে গোসল করতে নেমে রাবেয়া আক্তার জুঁই (১৫) নামে এক কিশোরী নিখোঁজ হয়েছে। ঢাকা থেকে আত্মীয়ের বাড়ি বেড়াতে এসে নদীতে নেমে ওই কিশোরী নিখোঁজ হয়। ঘটনার পরপরই তার সন্ধান পেতে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। তবে ১১ ঘণ্টায়ও তার সন্ধান মেলেনি।

রবিবার (১৬ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সদর উপজেলার ৯ নম্বর এম বালিয়াতলী ইউনিয়নের লতাকাটা খেয়াঘাট এলাকায় পায়রা নদীতে গোসলে নেমে নিখোঁজ হয় সে। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। রাবেয়া আক্তার জুঁই ঢাকার মিরপুর ১ নম্বর এলাকার জনী চৌধুরীর মেয়ে এবং মিরপুর সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জুঁই ও তার বান্ধবী রিয়া মনি আজ সকালে ঢাকা থেকে বরগুনা সদরের ৯ নম্বর এম বালিয়াতলী ইউনিয়নের লতাকাটা এলাকায় আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে আসে। সেখানে এসে বাড়িতে বিশ্রাম না নিয়েই বান্ধবীকে নিয়ে পায়রা নদীতে গোসল করতে নামে। তারা কিছু সময় ধরে নদীতে গোসল করেছিল। এ সময় নদীতে স্রোত থাকায় রিয়া মনি তীরে উঠতে পারলেও পানিতে তলিয়ে যায় জুঁই। পরে স্থানীয়রা নদীতে জাল টেনে এবং বিভিন্নভাবে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পায়নি। খবর পেয়ে বরগুনা ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। কিন্তু সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত তার সন্ধান মেলেনি।

ঢাকা থেকে নানার বাড়ি বেড়াতে এসে নদীতে নেমে ওই কিশোরী নিখোঁজ হয়

জুঁইয়ের বান্ধবী রিয়া মনি বলেন, ‌‘আমরা দুজন একসঙ্গে গোসল করতে নামি। তবে নদীর তীরে যে এত গভীর তা বুঝতে পারিনি। হঠাৎ একটি ঢেউ এসে আমাদের টেনে নিয়ে যায়। আমি কোনোমতে তীরে উঠতে পারলেও পেছনে ফিরে দেখি জুঁই নেই। পরে এখানকার লোকজন এসেও তাকে উদ্ধার করতে পারেননি।’ 

এদিকে একমাত্র সন্তানের জন্য দিশেহারা মা তাসলিমা আক্তার। তিনি বলেন, ‘আমরা ঢাকায় বসবাস করি। জুঁই সাঁতার জানে না। একদিন আগে আমি এখানে বেড়াতে আসছি, আর আমার মেয়ে ওর বান্ধবীকে নিয়ে আজ সকালে এসেছিল। জুঁই বাড়িতে এসে একটু সময় বসলো না। তড়িঘড়ি করে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়লো। আর এখন আমার মেয়েকে খুঁজে পাচ্ছি না। নদী বুঝি আমার মেয়েটাকে কেড়ে নিয়ে গেলো।’

বরগুনা সদর ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার মো. ইমদাদুল হক বলেন, ‘খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেছে। তবে নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় এখন পর্যন্ত নিখোঁজ ওই কিশোরীর কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি। পটুয়াখালী ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলও এসেছে।’

পটুয়াখালী নদী ফায়ার স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা মো. রেজোয়ান বলেন, ‘এ ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে খবর দেয়। পরে পটুয়াখালী ডুবুরি দলকে জানালে আমরা সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে চলে আসি। আমাদের উদ্ধারকাজ চলমান আছে। যতক্ষণ উদ্ধার না হবে ততক্ষণ অভিযান চলবে।’