আমি এমপি-মন্ত্রী নই—আমি আপনাদের মঞ্জু মিয়ার ছেলে হিসেবে থাকতে চাই: পার্থ

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ গত ১৭ বছরে দেশকে এমন অবস্থায় নিয়ে গেছে যে দেশের অর্থনীতির কোমর ভেঙে গেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন সময়ে দেশের দায়িত্ব নিয়েছেন। সেখান থেকে দেশকে ঘুরে দাঁড় করাতে হবে।’

বুধবার (২ আগস্ট) দুপুরে ভোলা শহরের নতুন বাজার চত্বরে আয়োজিত এক পথসভায় এসব কথা বলেন তিনি। তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি ধন্যবাদ জানাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে। তিনি এত বড় একটি দায়িত্ব বিশ্বস্ততার সঙ্গে আমাকে দিয়েছেন। সকলের দোয়া থাকলে আমি সততার সঙ্গে এই দায়িত্ব পালন করবো।’

বরিশাল-ভোলা সেতু নির্মাণের দাবি পূরণে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘প্রকল্পের ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। একই সঙ্গে ভোলার সঙ্গে বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থার বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করছে।’

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পর এই প্রথম নিজ জেলা সফরে গেলেন ভোলা-১ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান। দুপুরে বরিশাল থেকে স্পিডবোটে ভোলা সদর উপজেলার খেয়াঘাটে পৌঁছালে সেখানে তাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানানো হয়। এ সময় জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা বিএনপি, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, জেলা তথ্য অফিস এবং বিজেপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

নিজের রাজনৈতিক জীবনের প্রসঙ্গ তুলে পার্থ বলেন, ‘২০০৮ সাল থেকে আমার রাজনীতির শুরু। আমার পিতা মরহুম নাজিউর রহমান মঞ্জু ২০০৬ সালে ইন্তেকাল করেন। এরপরই আমি রাজনীতিতে আসি। সেই সময়টা ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়।’

তিনি বলেন, ‘সেই সময় মঈনউদ্দিন-ফখরুদ্দিন সরকারের আমলে জাতীয়তাবাদী শক্তির ওপর অনেক অন্যায়-অত্যাচার হয়েছে। একটি বিশেষ পরিস্থিতির মধ্যে আমাকে নির্বাচন করতে হয়েছে। তখন বাংলাদেশে আমাকে কেউ চিনত না। ভোলায় আমার একটাই পরিচয় ছিল—আমি মরহুম মঞ্জু মিয়ার ছেলে।’

পার্থ বলেন, ‘২০০৮ সালে বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মীসহ সবাই মিলে কাজ করে আমাকে বিশ্বাস করে সংসদে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। এরপর দীর্ঘ ১৮ বছর আমি কী রাজনীতি করেছি, তা সবাই ভালো করে জানেন। আমি কত সুযোগ-সুবিধা নিতে পারতাম, কিন্তু সেগুলো বাদ দিয়ে জেল-জুলুম মাথায় নিয়ে জাতীয়তাবাদী শক্তির পক্ষে থেকেছি।’

ভোলার মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘জীবনের প্রতিটি কঠিন সময়ে ভোলার মানুষ আমার পাশে দাঁড়িয়েছে। এ জন্য আমি আজীবন ভোলার মানুষের কাছে ঋণী হয়ে থাকবো। আমি কোনও এমপি নই, কোনও মন্ত্রী নই—আমি আপনাদের মঞ্জু মিয়ার ছেলে হিসেবে থাকতে চাই। নির্বাচনে অনেকে আমাকে ভোট দিয়েছেন, অনেকে দেননি। কিন্তু আমি সবাইকে বলে দিতে চাই, আপনারা আমাকে সহযোগিতা করেন, যাতে আমি সবার জন্য কাজ করতে পারি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার একটাই কথা—আমার কোনও সন্ত্রাসী, কমিশন, জিআর, টিআর, কাবিখা, এমনকি ঠিকাদারিও আমার রক্তে নেই, বংশেও নেই। ভোলার মানুষ পাশে ছিল, আল্লাহতায়ালা চেয়েছেন, তাই আমি নির্বাচিত হয়েছি। আমি কারও ওপর নির্ভরশীল নই। আমি শুধু আল্লাহ ও মানুষের ওপর নির্ভরশীল।’

রাজনৈতিক প্রতিহিংসা না করার কথা জানিয়ে পার্থ বলেন, ‘আমি কথা দিচ্ছি, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন থেকে শুরু করে যারা আমাদের বিরোধী দল আছে, প্রত্যেকের জন্য আমার দরজা খোলা। যেখানেই উন্নয়নমূলক কাজ করতে চাইবেন, আপনারা আমার কাছে আসবেন। এই ভোলায় কোনও প্রতিহিংসার রাজনীতি হবে না।’

ভোলা-বরিশাল সেতুর প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে ভোলা-বরিশাল সেতুর জন্য ভোলার প্রত্যেক মানুষ আন্দোলন করেছেন। এ জন্য আমরা সবাই কাজ করেছি। সরকার সেটাও দেখছে। পাশাপাশি সরকার তার অবস্থান থেকে অন্য একটি বিষয়ও বিবেচনা করছে। ভোলা থেকে হিজলা-মুলাদী-শরীয়তপুর হয়ে ঢাকায় গেলে ৪০ মিনিট কম সময় লাগে—সেই রুটটিও সরকার বিবেচনা করছে।’