গোপালগঞ্জ থেকে সাক্ষ্য দিতে যাওয়া ব্যক্তির ওপর পটুয়াখালী আদালতে হামলা

পটুয়াখালী আদালতে মিস কেস মামলায় সাক্ষ্য দিতে এসে মারধরের শিকার হয়েছেন বাদী এম এ খায়ের মোল্লা ওরফে বাচ্চু মোল্লা। পরে তাকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেছেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ সময় তার ছেলে রেদোয়ানকেও পুলিশের হাতে দেওয়া হয়।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে জেলা আইনজীবী সমিতির ক্যান্টিনে এ ঘটনা ঘটে। বাচ্চু মোল্লার বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলার মাকসুদপুর উপজেলার শ্রীযুতপুরে। বাচ্চু মোল্লা নিজেকে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এবং বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দেন। তার বিরুদ্ধে পটুয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে  জানিয়েছে পুলিশ।

জানা গেছে, ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ঢাকাতে একাধিক মামলার আসামি এই ব্যক্তি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাক্ষ্য দেওয়ার আগে বেলা ১১টার দিকে এবং সাক্ষ্য দেওয়ার পর দুপুর ১টার দিকে দুই দফা মারধর করা হয়েছে বাচ্চু মোল্লাকে। তবে জেলা ছাত্রদল এ ঘটনার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। 
তবে ছাত্রদলের একাধিক সূত্রে জানা যায়, কুয়াকাটায় রোজভ্যালি মোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও মামলা চলছিল জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ঢাকা মহানগর (উত্তর) সাবেক আহ্বায়ক জসিম উদ্দিন রানার সঙ্গে গোপালগঞ্জের বাচ্চু মোল্লার। ওই মামলার সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য মঙ্গলবার সকালে ছেলে রেদোয়ানকে সঙ্গে নিয়ে পটুয়াখালী জজকোর্টে আসেন তিনি।

প্রথমে সাক্ষ্য দেওয়ার আগে আইনজীবী সমিতির ক্যান্টিনে একদফা মারধর করা হয়। সাক্ষ্য দেওয়ার পর দ্বিতীয় দফা মারধর করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। 

এ বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক মেহেদী হাসান শামীম চৌধুরী বলেন, ‘কুয়াকাটার একটি রিপোর্ট নিয়ে জসিম উদ্দিন রানা ভাইর সঙ্গে খায়ের মোল্লা ওরফে বাচ্চু মোল্লার বিরোধ চলছিল। আমার জানামতে ওই জমির প্রকৃত মালিকানা রানা ভাইর। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় গোপালগঞ্জের প্রভাব খাটিয়ে রিসোর্টটি ভোগ দখল করে বাচ্চু মোল্লা। রানা ভাই ছাত্রদলের ঢাকা মহানগর (উত্তর) সাবেক আহ্বায়ক। এ কারণে ছাত্রদলের দুই/চার নেতাকর্মী তার সঙ্গে থাকতেই পারেন। যেহেতু এটি ব্যবসায়ী ঘটনা। এখানে সাংগঠনিকভাবে এ ঘটনার সঙ্গে ছাত্রদলের কোনও সম্পৃক্ততা নেই এবং ছাত্রদল এ ধরনের রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না।’

জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মজিবুর রহমান দুলাল বলেন, ‘খবর পেয়ে আমি দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই এবং উভকে শান্ত করে বাচ্চু মোল্লাকে সাক্ষ্য দিতে পাঠিয়ে দেই। সাক্ষ্য দেওয়ার পর আদালত চত্বরের বাইরে কি ঘটনা ঘটেছে তা আমার জানা নেই। তবে এ ঘটনাটি কোনও রাজনৈতিক ঘটনা না, এটি ব্যবসা সংক্রান্ত ঘটনা।’ 

জজকোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান টোটন বলেন, ‘আমি শুনেছি, ক্যান্টিনে দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়েছে। মারধরের কোনও খবর আমার জানা নেই। তাছাড়া এটি কোনও রাজনৈতিক কোনও ঘটনা নয়, ব্যবসা কেন্দ্রিক ঘটনা নিয়ে হয়েছে শুনেছি। তার বিরুদ্ধে ডজনখানেক মামলা থাকায় পুলিশ এসে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এ পর্যন্তই আমি জানি। এখানে ছাত্রদলের জড়িত থাকার সুযোগ নেই।’

এ বিষয় জানতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক আহ্বায়ক জসিম উদ্দিন রানার মোবাইল ফোনে কল দিয়ে পাওয়া যায়নি। 
 
এ বিষয়ে পটুয়াখালী সদর থানার ওসি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানান, খায়ের মোল্লা ওরফে বাচ্চু মোল্লা নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে  পটুয়াখালী থানায় মামলা রয়েছে। এ ছাড়া দেশের অন্য কোথায়ও তার বিরুদ্ধে আরও মামলা রয়েছে কি-না, তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তার ছেলেকেও থানায় পুলিশ হেফাজতে আনা হয়েছে এবং ছেলের বিরুদ্ধেও কোনও মামলা রয়েছে কি-না, সেটি যাচাই করা হচ্ছে।