এসময় তার দুই শিশু কন্যা ছয়মাস বয়সী অনু ও তিন বছর বয়সী বিন্তুকেও জেলে মায়ের সঙ্গে থাকার অনুমতি দেন আদালত। তবে অপর কন্যা শিশু লামিয়া আট বছরের হওয়ায় সে তার খালার কাছে রয়েছে।
এদিকে হত্যার ঘটনায় বিচারের দাবিতে বরিশালের বানারীপাড়ায় বিক্ষোভ মিছিল, স্মারকলিপি পেশ ও মানববন্ধন করে হত্যাকারীর শাস্তি দাবি করেছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
এর আগে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সামনে হাজির করা হয় নুপুরকে। সেখানে সহকারী পুলিশ সুপার প্রশান্ত কুমার দে’র উপস্থিতিতে নুপুর বেগম নিজের দোষ স্বীকার করে বলেন, রাগের কারণে ধাক্কা দেওয়ায় এ ঘটনা ঘটেছে। তিনি বুঝতে পারেননি এর ফল এত নির্মম হবে। এজন্য তিনি অনুতপ্ত বলে জানান।
মানবাধীকার কমিশনের বানারীপাড়া উপজেলা সভাপতি এটিএম মোস্তফা সরদার জানান, ঘটানাটি অত্যন্ত ন্যাক্কার ও দুঃখজনক। তিনি এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
এদিকে বেলা ১১টায় শিশু হাফিজুল হত্যার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বরিশালের পুলিশ সুপার এস.এম আকতারুজ্জামান। সেসময় ঘটনার বিচার ও দোষী ব্যক্তির শাস্তি দাবি করেন স্থানীয় মানবাধিকার ও রিকশা শ্রমিক সংগঠনের নেতারা।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (১৪ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে ঘুম থেকে জেগে কাউকে দেখতে না পেয়ে কান্না শুরু করে শিশু হাফিজুল। এসময় পাশের ঘরেই দুই কন্যা শিশু নিয়ে ঘুমাচ্ছিলেন নুপুর বেগম। হাফিজুলের কান্নার চিৎকার শুনে ঘুম ভেঙে যায় তার। এতে সে ক্ষিপ্ত হয়ে রাগের বসে শিশু হাফিজুরকে আছাড় দেয়। এতে খাটের সঙ্গে আঘাত লেগে গুরুতর আহত হয় হাফিজুর। তার বুকে, মাথায় ও ঘারে গুরুতর আঘাত পেলে প্রথমে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, পরে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা নিয়ে যাওয়ার জন্য পরামর্শ দিলেও অর্থসংকটে ফের বানারীপাড়া উপেজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন স্বজনরা। ওই দিন রাত ১২টায় উপেজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাফিজুরের মৃত্যু ঘটে।
এ ঘটনার পর হাফিজুরের বাবা রিপন শেখ বাদী হয়ে বানারীপাড়া থানায় মামলা দায়ের করে। পুলিশ ঢাকার স্কয়ার হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকা থেকে শনিবার তাকে গ্রেফতার করে।
/এআর /এএইচ/আপ-এসএনএইচ/