স্বামীকে কিডনি দিচ্ছেন স্ত্রী, বললেন ‘সে না থাকলে আমার বেঁচে থেকে লাভ কী’

অনেক খুঁজেও ডোনার না পেয়ে অবশেষে স্বামীকে কিডনি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন স্ত্রী। দাম্পত্য জীবনের বাকি সময়টা স্বামীকে নিয়েই কাটাতে চান তিনি। এ কারণে রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য স্বামীকে নিয়ে সড়কপথে দিল্লি গেছেন। 

সব ধরনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন এ শিক্ষক দম্পতি। স্বামী বরিশালের গৌরনদী উপজেলার সহকারী শিক্ষক সমাজের সাধারণ সম্পাদক এবং নীলখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সুদাম পাল। তার স্ত্রী একই উপজেলার কটকস্থল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক মন্দিরা রানী পাল।

সুদাম পাল জানান, তিনি বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাসিন্দা। ২০০৩ সালে সহকারী শিক্ষক হিসেবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরিতে যোগদান করেন। ২০০৪ সালে তিনি পটুয়াখালীর গলাচিপা সদরের শিক্ষক মনিন্দ্র পালের মেয়ে মন্দিরা রানী পালকে বিয়ে করেন। বিয়ের পরপরই মন্দিরা রানী পাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক হিসেবে গৌরনদীর খাঞ্জাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। পরে তিনিও গৌরনদীতে চলে আসেন। বর্তমানে তাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। ছেলে হৃদম পাল অনার্স প্রথম বর্ষে এবং মেয়ে রাই পাল অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত।

তিনি জানান, ২০১৯ সালে কিডনি রোগে আক্রান্ত হন। প্রথমে বাংলাদেশে এবং পরে ভারতের বিভিন্ন প্রদেশের হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। সম্প্রতি দিল্লির ম্যাক্স সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিলে চিকিৎসকরা তার কিডনি প্রতিস্থাপনের পরামর্শ দেন। এরপর তিনি বিভিন্নস্থানে কিডনির ডোনার খোঁজা শুরু করেন। কোথাও ডোনার না পাওয়ার এক পর্যায়ে স্ত্রী তার জীবন বাঁচাতে নিজের একটি কিডনি দেওয়ার জন্য সম্মত হন। এ জন্য আদালত, আইন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

এ শিক্ষক আরও জানান, সব প্রক্রিয়া শেষে রবিবার সকাল ৮টার দিকে সড়কপথে ভারতের দিল্লির উদ্দেশে বাংলাদেশ ত্যাগ করেন শিক্ষক দম্পতি। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সময় বিকাল ৩টায় দিল্লিতে চিকিৎসকদের সঙ্গে তাদের চিকিৎসা সংক্রান্ত পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী পরে কিডনি প্রতিস্থাপন করা হবে।

স্বামীর সুস্থতার জন্য স্ত্রীর এমন ত্যাগ ও ভালোবাসার ঘটনায় শিক্ষক দম্পতিকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইতিমধ্যে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। তাদের চিকিৎসা সফলভাবে সম্পন্ন হয়ে সুস্থভাবে দেশে ফেরার জন্য সুদাম পাল ও তার স্ত্রী মন্দিরা রানী পালের জন্য প্রার্থনা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দিয়েছেন নেটিজেনরা। 

এ বিষয়ে মন্দিরা রানী পাল বলেন, স্বামী কোনোভাবেই চাপ প্রয়োগ করেননি। সে যদি বেঁচেই না থাকে তাহলে আমার বেঁচে থেকে লাভ কী? জীবনের যে কটা দিন বেঁচে থাকবো স্বামীকে নিয়ে বেঁচে থাকতে চাই। এ জন্যই আমি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আপনারা সকলে দোয়া করবেন আমরা যেন সুস্থ হয়ে দেশে ফিরতে পারি।