লক্ষ্মীপুরে ১০ মিনিটের জন্য নেওয়া মোটরসাইকেল ১৩ দিনেও ফেরত না দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে হোসেন মিয়া (৪৮) নামে এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। এ সময় তার ছেলে পল্লী চিকিৎসক সাইফুল ইসলামকেও মারধর করা হয়।
রবিবার (১ নভেম্বর) রাতে রায়পুর ও লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার সীমান্তবর্তী উত্তর হামছাদী ইউনিয়নের কাজিরদিঘীরপাড় বাজারে এ ঘটনা ঘটে। সাইফুলের অভিযোগ, একই এলাকার শাকিল হোসেন ও তার অনুসারীরা তাদের ওপর হামলা চালান।
নিহতের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, ১০ মিনিটের জন্য সাইফুলের মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়ার পর ১৩ দিন পেরিয়ে গেলেও সেটি ফেরত দেওয়া হয়নি। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। মোটরসাইকেল ফেরত দেওয়ার বিষয়টি মীমাংসায় বাজারের একটি দোকানে বৈঠকে বসার কথা ছিল। তবে শাকিল বৈঠকে বসতে রাজি না হওয়ায় সাইফুল ও তার বাবা হোসেনের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে শাকিল ও বিপ্লব নামে এক ব্যক্তি হোসেনকে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এ সময় সাইফুলও মারধরের শিকার হন।
নিহত হোসেন মিয়া কাজিরদিঘীরপাড় এলাকার সুলতান আহমেদ ভূঁইয়ার ছেলে। তিনি স্থানীয় বাজারে টেইলার্সের ব্যবসা করতেন। তার আগে থেকেই হৃদরোগের সমস্যা ছিল বলে জানা গেছে।
সাইফুল ইসলাম জানান, গত ১৯ অক্টোবর ১০ মিনিটের কথা বলে শাকিল তার মোটরসাইকেলটি নিয়ে যান। পরে সেটি ফেরত না দেওয়ায় একাধিকবার যোগাযোগ করেন তিনি। শনিবার (৩১ অক্টোবর) মোটরসাইকেল ফেরত দেওয়ার কথা বলে তাদের বসতে ডাকা হয়। এরপর তিনি, তার বাবা ও মেজো ভাই মোটরসাইকেল আনতে যান। এ সময় শাকিল তার বাবার বুকে ও নাকে আঘাত করেন বলে অভিযোগ করেন সাইফুল। এতে তার বাবার মৃত্যু হয়। তিনি এ ঘটনার বিচার দাবি করেন।
লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার জহুরুল ইসলাম রনি বলেন, হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। ময়নাতদন্তের পর চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ওসি ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। অভিযুক্তদের আটকের জন্য অভিযান চলছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।