বরিশালের উজিরপুরে সানুহার-ধামুরা সড়কের প্রায় চার কিলোমিটার অংশের দুই পাশের সরকারি জায়গার গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা শ্রমিকদলের সভাপতি জিয়া আমিন রাঢ়ীর নেতৃত্বে তার লোকজন এসব গাছ কেটে নিয়ে গেছেন।
গত কয়েক দিন ধরে গাছ কাটা চললেও মঙ্গলবার এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন উপজেলা প্রকৌশলী। তবে অভিযোগে কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি। উজিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগটি করেন।
অভিযোগে বলা হয়, সানুহার থেকে ধামুরা সড়কের উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে। গত ২ নভেম্বর বিকাল ৪টার দিকে কাজ পরিদর্শন শেষে তিনি কার্যালয়ে ফিরে যান। পরদিন মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে আবার কাজ পরিদর্শনে গিয়ে সড়কের মাঝামাঝি অংশে তিন-চারটি গাছ কাটা অবস্থায় দেখতে পান। পরে সরেজমিনে সানুহার-ধামুরা সড়কের চার কিলোমিটার অংশজুড়ে গাছ কেটে নেওয়ার চিত্র দেখা যায়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, গত কয়েক দিন আগে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা সড়কের পাশের সরকারি গাছগুলোতে চিহ্ন দিয়ে যায়। এরপর থেকেই গাছ কাটা শুরু হয়। দিনে ও রাতেও গাছ কেটে নেওয়া হয়। এরই মধ্যে সানুহার থেকে কচুয়া পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে। উপজেলা শ্রমিকদলের সভাপতি জিয়া আমিন রাঢ়ীর নেতৃত্বে তার লোকজন এসব গাছ কেটে নিয়ে গেছেন।
এ বিষয়ে উজিরপুর উপজেলার শোলক ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি সরকারি গাছ কাটার ঘটনায় উপজেলা শ্রমিকদলের সভাপতি জিয়া আমিন রাঢ়ীসহ কয়েকজনকে দায়ী করেন। তবে দলীয় নেতাদের অনুরোধে পরে পোস্টটি মুছে ফেলেন বলে বুধবার দুপুরে স্বীকার করেছেন তিনি। পোস্ট মুছে ফেললেও গাছ কাটার ঘটনা সত্য বলে জানান ওই ছাত্রদল নেতা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি ও দলীয় নেতাকর্মী জানিয়েছেন, শ্রমিকদল নেতা জিয়া আমিন তার লোকজন দিয়ে এসব গাছ কাটাচ্ছেন এবং কেটে নিয়ে গেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে জিয়া আমিন রাঢ়ীর ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
উজিরপুর উপজেলা বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, ‘গাছগুলো সামাজিক বনায়নের আওতাভুক্ত কিনা তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কেউ কেউ বলছেন, সাবেক এক সংসদ সদস্য স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে গাছগুলো কয়েক বছর আগে সরকারি রাস্তার দুই পাশে রোপণ করেছিলেন। তবে যেহেতু এগুলো রাস্তার পাশের, তাই সরকারি গাছই বলা যায়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’
উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় বলেন, ‘সড়কটি এলজিইডির হলেও গাছগুলো কারা লাগিয়েছিলেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে সরকারি জায়গায় যেহেতু গাছগুলো এত বছর বড় হয়েছে সেহেতু এগুলো সরকারি গাছই। ফলে ওই গাছগুলো চুরি হওয়ায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।’
উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলী সুজা বলেন, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে থানা-পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’