গ্যাসলাইন বিস্ফোরণে বাবা, মা ও দুই ভাইকে হারায় ১১ বছরের শিশু জারিফ। ঘটনার পর ৫২ দিন হাসপাতালে ছিল সে। তখনও জারিফ জানতো না দুর্ঘটনায় সে সব হারিয়েছে। শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে সোমবার ঢাকা থেকে তাকে বরিশালে মামার বাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছে। সেখান থেকে নেওয়া হয়েছে খালার বাসয়। সেখানেই তাকে জানানো হয় কঠিন সত্যটি। এরপর থেকেই জারিফের চোখে-মুখে শুধুই স্বজন হারোনোর বেদনা।
জারিফের বাবা শাহনেওয়াজ ছিলেন মার্কিন দূতাবাসের প্রকৌশলী। রাজধানীর উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টরের ৮ নম্বর বাড়ির সাত তলার একটি ফ্ল্যাটে থাকতো জারিফরা। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে তার মা সুমাইয়া খানম রান্না ঘরে দেশলাইয়ের কাঠি জ্বালাতেই ঘরে আগুন ধরে যায়। এতে বাবা শাহনেওয়াজ (৫০), মা সুমাইয়া বেগম (৩৫), বড় ভাই সালীন (১৫) ও ১৪ মাস বয়সী ছোট ভাই জায়ান মারাত্মক দগ্ধ হন।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আনার পরপরই মারা যায় তার দুই ভাই। একদিন পর মারা যান বাবা। শরীরের ৯০ শতাংশ পোড়া নিয়ে কয়েকদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থেকে মারা যান মা। আর জারিফ ৫২ দিন চিকিৎসার পর সুস্থ হয়েছে।
বরিশাল নগরীর নবগ্রাম এলাকায় জারিফের নানা বাড়ি। তার মা ও দুই ভাইকে কবর দেওয়া হয়েছে বরিশালের তাবলীগ মার্কাজ মসজিদ কবরস্থানে। আর তার বাবাকে কবর দেওয়া হয়েছে ঝালকাঠিতে দাদা বাড়িতে।
আগুনে জারিফের ডান পায়ের হাঁটুর নিচ থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত পুড়ে যায়। এছাড়া ডান হাত আর বাঁম পায়ের নিচের অংশও পুড়েছে। ডান হাত ও পায়ে অস্ত্রোপচার হয়েছে।
আরও পড়ুন: স্বামীর হত্যাকারী সন্দেহে স্ত্রীকে গাছের সঙ্গে বাঁধলো গ্রামবাসী!
নগরীর কলেজ এভিনিউয়ের লেচুশাহ্ সড়কের মুনিরা মঞ্জিলে খালা তাসলিমা বেগমের বাসায় জারিফের মামা হামীমের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তিনি বলেন, ‘সোমবার আমার বাসায় ছিল। তবে এখন থেকে জারিফ আমার বোনের বাসাতেই থাকবে।’
জারিফ তার বাবা-মা আর দুই ভাইয়ের কবর দেখতে চাইলে সোমবার তাকে মা ও ভাইয়েদের কবরের পাশে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে যাওয়ার পর সে খুব কান্নাকাটি করেছে।
খালা তাসলিমা বেগম জানান, জারিফ এখনও অন্যের সাহায্য ছাড়া চলতে পারছে না। কোথাও গেলে কোলে করে নিয়ে যেতে হয়। তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে জারিফকে বরিশালের কোনও স্কুলে ভর্তি করা হবে।
তিনি আরও বলেন, বাবার কবর দাদার বাড়ি ঝালকাঠিতে হওয়ায় জারিফকে এখনও সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়নি। একটু সুস্থ হলে বাবার কবর জিয়ারত করতে তাকে সেখানেও নিয়ে যাওয়া হবে।
আরও পড়ুন: ভারতের মাটিতে রাখাল মরলে সীমান্ত সীলগালা
/এসটি/