ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর প্রভাবে চট্টগ্রামের চার উপজেলায় বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে জোয়ারের পানি। বন্ধ রয়েছে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর ও বন্দরের কার্যক্রম। পাশাপাশি চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকা (সিইপিজেড) ও কর্ণফুলী ইপিজেডের সব কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে শনিবার দুপুরে রোয়ানু আঘাত হানায় চট্টগ্রাম নগরের সর্বত্র বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পিডিবির জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামন বলেন, দুর্ঘটনার আশঙ্কায় শনিবার সকাল ১১টা থেকেই চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করা হয়েছে। চট্টগ্রামের অনেক এলাকায় গাছ উপড়ে পড়ছে, সরবরাহ লাইনও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ কারণে সর্তকতা অবলম্বন করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ শামসুজ্জামান জানিয়েছেন, ঘুর্ণিঝড়ের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে বাঁধ ভেঙে উপজেলার অধিকাংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের সদস্য (প্রশাসন) মো. জাফর আলম জানান, বহির্নোঙরে মালামাল খালাস বন্ধ করা হয়েছে। বন্দর চ্যানেল ও বহির্নোঙরে অবস্থানরত সব লাইটারেজ জাহাজকে (ছোট জাহাজ) উজানে সরে যেতে বলা হয়েছে। বন্দরের জেটিতে থাকা সব জাহাজ ও যন্ত্রপাতিও নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার। দমকা অথবা ঝড়ো বাতাসের আকারে এটি ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। চট্টগ্রাম, মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
রোয়ানুর আঘাতে চট্টগ্রামে ইতোমধ্যে নারী ও শিশুসহ নয়জন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন- জাঙ্গল সলিমপুর এলাকার কাজল বেগম (৫০), তার ছেলে মোহাম্মদ বেলাল (১০) ও ষোলশহর এলাকার পথশিশু মোহাম্মদ রকিব (১১)। সীতাকুণ্ডের সহকারী পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম ঝড়ে নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া বাঁশখালী উপজেলায় ৬ জন নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শামসুজ্জামান। জানা যায় বাঁশখালীর ছরুয়ায় একজন ও খানখানাবাদ উপজেলায় অবশিষ্ট পাঁচজন মারা গেছেন। গাছ ও দেয়ালচাপাসহ বানের পানিতে ডুবে এসমস্ত নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করছে রোয়ানু, নিহত ১২
/এমও/