কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান ওরফে তনু হত্যা মামলায় জামিনে মুক্তি পেয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হাফিজুর রহমান। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টার দিকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি।
গত ২৫ এপ্রিল থেকে হাফিজুর রহমান (৫২) কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে ছিলেন। তিনি সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার। ২০১৬ সালে তনু হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন। ২০২৩ সালে তিনি সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন বা তাকে অবসরে পাঠানো হয়েছে। গত ২১ এপ্রিল ঢাকার কেরানীগঞ্জের নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরদিন ২২ এপ্রিল বিকালে কুমিল্লা আদালতে হাজির করার আগে ওই দিন সকালে ঢাকায় সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে হাফিজুর রহমানের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়।
ওই হত্যা মামলায় হাফিজুর রহমান উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান। কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে আজ বিকালে জামিননামা কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছায়।
কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেলা সুপার মো. শাহ আলম খান বলেন, ‘উচ্চ আদালতের জামিনের আদেশ সরাসরি আমাদের কাছে পৌঁছায় না। সেটি কুমিল্লার সিজিএম (চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট) আদালত থেকে পাঠানো হয় আমাদের কাছে। বিকালে সিজিএম আদালত থেকে হাফিজুর রহমানের উচ্চ আদালত থেকে পাওয়া জামিননামা আমরা হাতে পেয়েছি। পরে সেটি যাচাই-বাছাই করে দেখে সত্যতা পাওয়া গেছে। এরপর সন্ধ্যা ৭টার দিকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন তিনি।’
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘তনু হত্যা মামলায় গ্রেফতার হয়ে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকা হাফিজুর রহমানের উচ্চ আদালতে জামিন হয়েছে বলে জেনেছি। তবে এই সংক্রান্ত কোনও আদেশের কপি আমরা এখনও হাতে পাইনি। আমরা মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি। ঘটনায় সন্দেহভাজন সকলকে আইনের আওতায় আনার কার্যক্রম অব্যাহত আছে।’
গত ৬ এপ্রিল কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক মুমিনুল হকের আদালতে হাজির হন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। এ সময় মামলার অগ্রগতি জানানোর পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে তিন জনের ডিএনএ নমুনা মেলানোর আবেদন করেন। আদালত তার আবেদনে সম্মতি দেন। ওই তিন জনের একজন হলেন হাফিজুর রহমান। অন্য দুজন হলেন ঘটনার সময় কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত সার্জেন্ট জাহিদ ও সৈনিক শাহীন আলম। তারাও বর্তমানে সেনাবাহিনী থেকে অবসরে আছেন।
পরে সাবেক দুই সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। একইসঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারি করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। ৮ জুন বিকালে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (১) আদালতের বিচারক মুমিনুল হক এ আদেশ দেন।
২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেননি তনু। পরে খোঁজাখুঁজি করে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে ঝোপের মধ্যে তনুর লাশ পাওয়া যায়। তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়। পরদিন তার বাবা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক (বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত) ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। এরপর ঘটনার তদন্ত শুরু হয়।

তনু হত্যা মামলার আসামির জামিন: ‘জানতেন না’ রাষ্ট্রপক্ষের ৯ আইনজীবী 







