খাগড়াছড়ির গঞ্জপাড়া এলাকায় প্রায় ৯৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ৭০ মিটার দীর্ঘ নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। দ্বিতীয় চেংগী সেতু এবং শত বছরের পুরনো গ্রাম গঞ্জপাড়া রক্ষার জন্য এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।এর ফলে দ্বিতীয় চেংগী সেতু ও গঞ্জপাড়া এলাকার একাংশের প্রায় দুই শতাধিক পরিবার রক্ষা পেলেও হুমকিতে আছে আরও পাঁচশ’ পরিবার। পুরো এলাকাকে রক্ষার জন্য প্রকল্প সম্প্রসারণের দাবি গ্রামবাসীর।
খাগড়াছড়ি পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)সূত্রে জানা যায়, প্রায় প্রতি বছর ভাঙছে চেংগী-ফেনী আর মাইনী নদীর তীর। ফলে তলিয়ে যাচ্ছে ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি। পুরো জেলায় ভাঙনের হুমকিতে আছে প্রায় ৫ হাজার পরিবার। তবে সবচেয়ে বেশি ভাঙনের ঝুঁকিতে আছে খাগড়াছড়ি শহরের পাশে গঞ্জপাড়া এলাকার বাসিন্দারা। গত বিশ বছরে গঞ্জপাড়া এলাকার শতাধিক পরিবার সব হারিয়ে পথে বসেছে। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে চলতি অর্থ বছরে নদীশাসনের কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
গঞ্জপাড়া এলাকার বাসিন্দা দিদারুল আলম বলেন, ব্রিজ বাঁচানোর জন্য ৭০ মিটার এলাকায় ব্লক ফেলে নদীশাসনের কাজ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। প্রশ্ন হচ্ছে মানুষই যদি না বাঁচে তাহলে ব্রিজ রক্ষা করে কী হবে?
একই এলাকার রিপ্রুচাই মারমা বলেন, সরকার ব্লক ফেলার কাজ শুরু করায় তাদের ভাল হয়েছে। এতে করে সেতু, দক্ষিণ গঞ্জপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ প্রায় দুইশতাধিক স্থাপনা রক্ষা পাবে। তবে প্রকল্পটি যদি আরও ৪/৫ শ’ মিটার বাড়ানো যায় তাহলে পুরো গ্রামবাসী ভাঙনের কবল থেকে রক্ষা পেতো।
একই এলাকার বয়োবৃদ্ধ চাইথোয়াই মারমা জানান, নদী ভাঙতে ভাঙতে ঘরের কাছে চলে এসেছে। রাতে ঠিকমতো ঘুমাতেও পারেন না। গ্রামের একপাশে যে কাজ হচ্ছে তা যদি তার বাড়ি পর্যন্ত বর্ধিত করা হতো তাহলে পুরো এলাকা রক্ষা পেতো।
তবে এই বিষয়ে কথা বলতে খাগড়াছড়ি পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি। তারা অধিকাংশ চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ে বসেন। মাসে দু’একবার খাগড়াছড়িতে আসেন। তাও সকালে আসলে বিকেলেই ফিরে যান চট্টগ্রামে।
প্রকল্প এলাকায় কর্মরত খাগড়াছড়ি পানি উন্নয়ন বোর্ডের সার্ভেয়ার, নিখিল চাকমা বলেন, ভাঙনের তীব্রতা উপলব্ধি করে তারা সাড়ে তিনশত মিটারের প্রকল্প তৈরি করেছিলেন, কিন্তু টাকা বরাদ্ধ কম হওয়ায় শুধু ৭০ মিটার এলাকায় কাজ চলছে। পরবর্তীতে বরাদ্ধ আসলে পুরো এলাকা রক্ষার জন্য কাজ করবেন।
/জেবি/ এপিএইচ/
আরও পড়তে পারেন : মেডিক্যাল বোর্ডকে ডিএনএ প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ আদালতের