১২ মে রাত থেকে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে কাপ্তাই হ্রদে। এর মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে গেছে কাপ্তাই হ্রদের পানি দিয়ে জীবিকা নির্বাহকারী জেলেদের দুর্বিষহ তিন মাস।
প্রতিবছর এ সময়ে কাপ্তাই হ্রদের মাছের সুষ্ঠু প্রজনন, বংশ বৃদ্ধি, মজুদ এবং ভারসাম্য রক্ষার স্বার্থে মাছ শিকারের ওপর তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা জারি করে প্রশাসন। তাই মাছ ও পানির সঙ্গে নয় মাসের মিতালি শেষে ঘরে ফিরে আসতে হয় জেলেদের। এই ঘরে ফিরে আসা যত না আনন্দের তারচেয়েও যেন বেশি কষ্টের। অনাহার, অর্ধাহারে জেলেদের এই তিন মাস কাটে। নামমাত্র সরকারি সহযোগিতায় তাদের পেট ভরে না। নিরুপায় হয়ে পড়তে হয় ঋণের ফাঁদে।
হ্রদে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহকারী নেপাল দাস নামে এক জেলে বলেন, নয় মাস পানির সঙ্গে কাটানোর পর তিন মাসের জন্য ঘরে ফেরা যে কত কষ্টের তা একমাত্র জেলেরায় বোঝে। নয় মাসে জেলেরা যা সঞ্চয় করে এই তিন মাসে তা বিক্রি করে চলতে হয়। তা ছাড়া অনেকে বিভিন্ন সংস্থা থেকে ঋণ নেওয়ায় ঋণের কিস্তি চালাতে এসময় হিমশিম খেতে হয়। অনেকে এই ঋণ পরিশোধ করতে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে মোটা সুদে ঋণ নিয়ে থাকে। এভাবেই মাছের জাল গুটিয়ে আসা জেলেরা ঋণের জালে আটকা পড়ে। যা পরবর্তী নয় মাসও বহন করতে হয়।
ঋণের কিস্তি তিন মাস স্থগিত রাখার প্রস্তাব রেখে নেপাল দাস বলেন, তিন মাস কিস্তি স্থগিত রাখলে জেলেদের সঞ্চিত বিভিন্ন জিনিসপত্র বিক্রি করতে হতো না বা উচ্চ সুদে ঋণ নেওয়ারও প্রয়োজন হতো না। এছাড়া ভিজিএফ কার্ডের মাধ্যমে যে সহায়তা দেওয়া হয় তা যদি পর্যাপ্ত পাওয়া যেতো তা হলেও জেলেরা তৃপ্তি সহকারে খেতে না পারলেও অন্ততঃ বেঁচে থাকতে পারতো। এসব হয় না বিধায় জেলেরা চুরি করে ঠিকই পানিতে জাল ফেলে। কারণ ক্ষুধা যখন পেটে থাকে তখন শাস্তির কথা কারও মাথায় থাকে না। জেলেদের পর্যাপ্ত সহায়তা দিলে বাকি নয় মাসের টানে তারা তিন মাস মাছ ধরা থেকে ঠিকই বিরত থাকবে। তখন জল-সীমান্তরক্ষী, পুলিশ ও আর্মি নামানোর প্রয়োজন হবে না ।
মৎস্য ব্যবসায়ী জালাল আহম্মেদ মিন্টু বলেন, হ্রদের ওপর নির্ভরশীল জেলেদেরকে তিন মাস নিষিদ্ধ মৌসুমে যদি পর্যাপ্ত সহায়তা প্রদান করা হয় তবে তারা চুরি করে আর মাছ শিকার করবে না। সরকার যে সহায়তা দেয় তা অপ্রতুল। দেখা যায় এই সময়টাতে জেলেরা পেটের দায়ে আমাদেরকে টাকার জন্য জ্বালাতন করে। তাই জেলেদের পর্যাপ্ত সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
রাঙামাটি মৎস্য কর্পোরেশনের উপ-ব্যবস্থাপক মো. মাসদুল আলম জানান, প্রতিবছর প্রতিজন জেলেকে প্রতিমাসে ২০ কেজি করে চাল সহায়তা দেয়া হতো। এবছর তা বাড়িয়ে ৪০ কেজি করে দেওয়ার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এখন বরাদ্দের ওপরই নির্ভর করবে জন প্রতি কত কেজি করে দেয়া হবে।
রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মো. সামসুল আরেফিন জানান, নিয়মানুযায়ী এবছরও মাছ শিকারের ওপর নির্ভরশীল জেলে পরিবারগুলোকে সহায়তা করা হবে। এবছর প্রতি জেলেকে ২০ কেজি থেকে বাড়িয়ে ৪০ কেজি করে দেওয়ার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন হয়ে আসলেই বোঝা যাবে কত কেজি করে দেওয়া যায়। তিনি বলেন, এবছর হ্রদে মাছের সুষ্ঠু প্রজননের জন্য নৌ-পুলিশ নামানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: পরিচয়পত্র পাননি ৫ লাখ নিবন্ধিত জেলে
/এইচকে/