ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু আঘাতের পর এক মাস পেরিয়ে গেলও এখন পর্যন্ত ক্ষত শুকায়নি কক্সবাজারসহ উপকূলীয় এলাকার। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে কক্সবাজারের বেড়িবাঁধ বিধ্বস্ত হয়। সেই বাঁধ দিয়েই প্রতিদিন উপকূলের ৩০ গ্রামে জোয়ার-ভাটার পানি প্রবেশ করে। এতে করে প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত মেলেনি বেড়িবাঁধ সংস্কারের অর্থ।
তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, খুব শিগগিরই বেড়িবাঁধ সংস্কারের কাজ শুরু করা হবে।
প্রতিদিন বিধ্বস্ত বেড়িবাঁধ দিয়ে সাগরের নোনা পানি কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার আলী আকবর ডেইল, উত্তর ধুরুং, মহেশখালী উপজেলার ধলঘাটা, মাতারবাড়ি, টেকনাফের সাবরাং এবং পেকুয়া-মগনামাসহ প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও পানি ঢুকে পড়ায় বন্ধ রয়েছে পাঠদান। রাস্তাঘাট পানির নিচে থাকায় বন্ধ রয়েছে যোগাযোগ। জোয়ারের সময় নৌকা দিয়ে যাতায়াত করছে পানিবন্দি লোকজন।
কুতুবদিয়ার উত্তর ধুরুং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এএসএম শাহরিয়ার চৌধুরী জানান, তার ইউনিয়নের অনেক গ্রামে বর্তমানে জোয়ার-ভাটা চলছে। এসব এলাকায় রান্না ঘরে আগুন পর্যন্ত জ্বলছে না। সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ।
তিনি আরও জানান, ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর পর থেকে এসব এলাকা থেকে প্রায় এক হাজার পরিবারের ৬ হাজার মানুষ অন্যত্র চলে গেছে।
মহেশখালীর মাতারবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ উল্লাহ জানান, তার এলাকার প্রায় ১৫ হাজার মানুষ পানির সঙ্গে যুদ্ধ করছে। ঘূর্ণিঝড়ের পর থেকে বেডিবাঁধ সংস্কারের জন্য কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে বার বার যোগাযোগ করেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি।
টেকনাফের সাবরাং ইউপি চেয়ারম্যান নুর হোছাইন জানান, ইউনিয়নের শতাধিক ঘরবাড়ি চার বছর আগে থেকেই বিলিন হয়ে গেছে। বর্তমানে এসব এলাকায় সাগরের জোয়ার-ভাটা চলছে। এসব এলাকা থেকে প্রায় ৫ হাজার মানুষ অন্যত্রে চলে গেছে।
কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: সালেহীন তানভীর গাজী বলেন, কুতুবদিয়া উপজেলার উত্তর ধুরুং এবং আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের সব কটি বেড়িবাঁধ ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর আঘাতে বিধ্বস্ত হয়। নতুন করে মেরামত করা বায়ুবিদ্যুৎ সংলগ্ন বেড়িবাঁধও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব বেড়িবাঁধ এখনও সংস্কার না হওয়ায় উপজেলার ৩০ হাজার মানুষ দুর্ভোগে রয়েছে। বেড়িবাঁধ সংস্কারের পানি উন্নয়ন বোর্ড দুয়েকদিনের মধ্যে কাজ শুরু করতে পারেন।
কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: সবিবুর রহমান বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর পরপরই আমরা সরেজমিন পরিদর্শন করে তদন্ত করেছি। বর্তমানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ট্রান্সফোর্স সদস্যরা এখন যাচাই বাছাই করছে। আমরা ইতিমধ্যে একটি সংস্কার প্রস্তাবনা দাখিল করেছি। আশা করছি খুব শিগগিরই কাজ শুরু হবে।’
আরও পড়ুন:
লাউয়াছড়া বনের ভেতর ঝুঁকি নিয়ে চলছে ট্রেন
বরিশালে অস্বাভাবিক বজ্রপাতে কেটেছে আতঙ্কের রাত
/এসটি/