সেনাবাহিনীর বিজ্ঞপ্তির বিষয়ে তনুর বাবা

আমাকে হত্যাচেষ্টার বিষয়টি সিআইডিকে জানিয়েছি

তনুর বাবা ইয়ার আলীকুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ ছাত্রী সোহাগী জাহান তনুর হত্যার বিষয়ে বৃহস্পতিবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়েছে। সেখানে তনুর বাবাকে গাড়ি চাপা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগটি সঠিক নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এবিষয়ে তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বলেছেন, আমাকে গাড়ি চাপা দেওয়ার চেষ্টার বিষয়টি সিআইডিকে জানিয়েছি। ক্যান্টনমেন্ট এক্সিকিউটিভ অফিসারকে গাড়ি চাপা দেওয়ার বিষয়ে বললে তিনি আমাকে বলেন-মামলা করতে। আমি এখানে সাক্ষী পাবো কোথায়? আমাকে এক্সিকিউটিভ অফিসার সাহেব নিষেধ করেছেন মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলতে। গাড়ি চাপা দেওয়ার বিষয়ে আমি মিথ্যে বলবো কেন? আমার মেয়েকে সেনানিবাসের ভেতর হত্যা হয়েছে, তা তো মিথ্যে নয়। আমি কোনও বাহিনীর বিরুদ্ধে নই, আমি মেয়ে হত্যাকারীদের বিচার চাই।
তিনি ফোনে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে বলেন, মেয়েটি মারা যাওয়ার মধ্য দিয়ে আমার পরিবারটি ধ্বংস হয়ে গেছে। আমার ৯০ বছর বয়সের বাবা এখনও বেঁচে আছেন।তিনি গ্রামের বাড়িতে থাকেন।তিনি বিশ্বাস করেন না তনু মারা গেছে। তিনি তনুকে ফেরত চান। তিনি আরও বলেন, আমি এখন আর সন্ধ্যার পর বাসার বাইরে বের হই না। 

এ দিকে সেনাবাহিনীর বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, তনুর পরিবার থেকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বিষয়ে ভিত্তিহীন ও অসংলগ্ন অভিযোগ করা হয়েছে যাতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার অবকাশ রয়ে যাচ্ছে। সেনানিবাসের অভ্যন্তরে বসবাসরত অন্যান্য সব পরিবারের মতই তনুর পরিবারকে সব রকম সুযোগ সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। তাদের স্বাধীনভাবে চলাচলে কোনও বিঘ্ন সৃষ্টি করা হয়নি। হত্যাকাণ্ডের পর প্রাথমিকভাবে নিরাপত্তা ও তদন্তের স্বার্থে তাদের বসবাস এলাকায় প্রহরী নিয়োগ করা হলেও পরবর্তীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতি সাপেক্ষে তা তুলে নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, তনুর পিতা জনাব ইয়ার হোসেন কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের একজন কর্মরত সদস্য, যিনি অন্যান্যদের মতোই সেনানিবাসের অভ্যন্তরে নিরাপত্তা পাচ্ছেন। তাকে বাস বা মোটর সাইকেল চাপা দিয়ে হত্যা প্রচেষ্টা সম্পূর্ণ একটি ধারণা প্রসূত ব্যাপার। যে ব্যাপারে তনুর পরিবার কাউকেই এ পর্যন্ত কোনও কিছু অবগত করেনি। এই ব্যাপারে জনাব ইয়ার হোসেনকে তার উপরস্থ কর্মকর্তা ক্যান্টনমেন্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার (সিইও) যিনি বেসামরিক প্রশাসন হতে প্রেষণে নিয়োজিত একজন প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তা, জিজ্ঞাসাবাদ করলে জনাব ইয়ার হোসেন নির্ভরযোগ্য কোনও তথ্য দিতে ব্যর্থ হন। তাছাড়া তিনি এ ব্যাপারে এতদিনে সেনা কর্তৃপক্ষ বা তদন্তকারী সংস্থার কারও কাছে অভিযোগ করেনি, যা গুরুত্ব বিবেচনায় অসংলগ্ন প্রতিপন্ন হয়।

আরও পড়ুন: সেনাবাহিনীও তনু হত্যার বিচার চায়

উল্লেখ্য, গত ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লা সেনানিবাসের বাসার পাশের একটি জঙ্গল থেকে তনুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজে তার প্রথম ময়নাতদন্ত করেন ডা. শারমিন সুলতানা। গত ৩০ মার্চ দ্বিতীয় দফায় ময়নাতদন্তের জন্য তনুর লাশ জেলার মুরাদনগরের মির্জাপুর গ্রামের কবর থেকে উত্তোলন ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। গত ৪ এপ্রিল দেয়া হয় প্রথম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন। ওই প্রতিবেদনে তনুকে হত্যা ও ধর্ষণের আলামত না থাকায় সমালোচনার মুখে পড়ে ফরেনসিক বিভাগ। গত ১৬ মে তনুর কাপড়ে ৩ পুরুষের শুক্রানু পাওয়া যাওয়ার খবর সিআইডি থেকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের পর আবারো আলোচনায় উঠে আসে প্রথম ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন। প্রথম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং ডিএনএ প্রতিবেদনের এমন গরমিল তথ্যে ঝুলে যায় ২য় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন। ডিএনএ প্রতিবেদন আদালতের নির্দেশে ফরেনসিক বিভাগে হস্তান্তরের পর ১২ জুন ২য় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। সেটি নিয়েও বিতর্ক হয়।

/টিএন/