পেটের দায়ে আমরা রাস্তায় সাধারণ মানুষদের আটকে বিরক্ত করি, কষ্ট দেই। আমরা যদি কোনও কাজ করতে পারি, নিজের পায়ে নিজে দাঁড়াতে পারি তাহলে কেউ আমাদেরকে মন্দ বলতে পারবে না। কথাগুলো বলছিলেন সমাজসেবা অধিদফতরের আওতায় হিজড়াদের জীবনমান উন্নয়নে প্রশিক্ষণ নিতে আসা শাহিনুর হিজড়া।
গত ৪ জুন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা সমাজসেবা কমপ্লেক্সে শুরু হয়েছে হিজড়াদের জীবনমান উন্নয়নে প্রশিক্ষণ কর্মশালা। মৌলিক দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ৫০ জন হিজড়াকে এখানে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এখানে তারা রূপচর্চাসহ মানসিক পরিবর্তনের প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। আর এই প্রশিক্ষণ নিয়ে আশাবাদী হয়ে ওঠেছেন তারা। প্রশিক্ষণ সংশ্লিষ্টরাও এ নিয়ে আশাবাদী। বলা হচ্ছে, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বদলে যাবে হিজড়াদের জীবনধারা। হিজড়াদের প্রতি সাধারণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিও পাল্টে যাবে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) প্রশিক্ষণ কক্ষে অবস্থান করার সময় প্রশিক্ষণ সংশ্লিষ্টরা এ সম্পর্কে ধারণা দিয়েছেন।
হিজড়াদের রূপচর্চায় প্রশিক্ষকের দায়িত্বে থাকা স্মৃতি সবুর বলেন, প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এখানে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রতিদিনই সময়মতো উপস্থিত হচ্ছেন অংশগ্রহণকারীরা। তারা খুব মনোযোগ দিয়ে চুলকাটা, রূপচর্চার প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।
হিজড়াদের গুরু খেলি হিজড়া বলেন, আমরা এই প্রশিক্ষণ নিয়ে খুবই খুশি। সামনে বিউটি পার্লার খোলার পরিকল্পনা আছে। নিয়মিত কাজ শেখার জন্য সবাইকে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। আশা করছি সরকারের এ উদ্যোগ সফল হবে।
কুমিল্লার অগ্নিবীনা সমাজ কল্যাণ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক আবুল কাশেম হিজড়া বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মোট ৩শ’ হিজড়া রয়েছে। এর মধ্যে ৫০ জন প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছে। আশা করছি, আগামীতে সেলাই, কম্পিউটার, হাঁস-মুরগি পালনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সবার জীবনমান উন্নয়নে আগ্রহী হয়ে আরও বেশি হিজড়া প্রশিক্ষণ নেবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, শুরুতে একসঙ্গে ৫০ জন হিজড়াকে নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া অনেক কষ্টের ব্যাপার ছিল। প্রশিক্ষণ শুরুর পর থেকে তাদের মধ্যে অনেক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আশা করছি সরকারের এ উদ্যোগ সফল হবে।
হিজড়ার জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্প সমন্বয় পরিষদের সভাপতি আল-মামুন সরকার বলেন,হিজড়াদের জন্য সরকার সময় অনুযায়ী পদক্ষেপ নিয়েছে। শুরুতে বিউটিফিকেশন শেখানোসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাদের মনোভাবের পরিবর্তন আনার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। পরবর্তীতে তাদেরকে অন্যান্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।
উল্লেখ্য, সমাজসেবা অধিদফতরের আওতায় হিজড়াদের জীবনমান উন্নয়নে গত ৪ জুন থেকে প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক ড. মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেন ওইদিন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এসময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার মেয়র নায়ার কবীরসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: গাছ চোরদের থাবায় বিপন্ন লাউয়াছড়া!
/এআর/এএইচ/