প্রকল্প ব্যবস্থাপক ওমিয়াংশু দাস জানান, ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে ভারতীয় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ইরকন ও এফকন্স যৌথভাবে বর্তমান রেল সেতুর ৪০ মিটার দক্ষিণে মেঘনা নদীর ওপর আরও একটি রেল সেতু নির্মাণ কাজ শুরু করে। প্রকল্পের মেয়াদ অনুযায়ী চলতি জুনে সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গত বছর ঘনঘন হরতাল অবরোধের প্রভাব আর বর্ষা মৌসুমে নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় সেতুটির নির্মাণ কাজ বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে প্রকল্পের মেয়াদ নির্ধারিত সময়ের চেয়ে আরও ছয় মাস বাড়িয়ে চলতি বছরের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত ধার্য করা হয়েছে।
দ্বিতীয় ভৈরব রেলসেতুর প্রকল্প পরিচালক মো.আব্দুল হাই জানান, এরইমধ্যে সেতুটির পিলার নির্মাণের কাজসহ প্রায় ৭৭ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই সেতুর ওপর দিয়ে ট্রেন চলাচল শুরু হবে।
তিনি জানান ঢাকা-চট্রগাম রেলপথের বিভিন্ন অংশে ডাবল লাইনের কাজ চলছে। সেতুটি নির্মাণের পর পুরো অংশে ডাবল লাইন হয়ে যাবে। ফলে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম ও সিলেটের মধ্যে ট্রেনে যাতায়তের সময়সীমা আরও কমে আসবে। বাড়বে ট্রেনের সংখ্যাও।
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মাসুদ করিম জানান, ভারতের ঋণ সহায়তা (এলওসি ফান্ড) এর অর্থায়নে ১.০২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের দ্বিতীয় ভৈরব রেল সেতুটির নির্মাণ করা হচ্ছে। সেতুতে মিটার ও ব্রডগেজ থাকায় ডুয়েল গেজে গাড়ি চলবে। বাংলাদেশের রেলপথ মন্ত্রণালয় এই প্রকল্পটির বাস্তবায়ন করছে। বর্তমানে সেতুটির মোট ১২টি পিলারের মধ্যে সবগুলোর কাজ শেষ হয়েছে। সেতুর দুই পাশে ভারত থেকে নিয়ে আসা স্প্যানগুলো বসানো হচ্ছে। দ্রুত গতিতে কাজ চলছে উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রকল্পের সময়সীমা বাড়লেও ব্যয় বাড়বে না। কাজের অগ্রগতি নিয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
প্রায় ১.০২ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ৭ মিটার প্রস্থ সেতুটিতে ১২টি পিলারের পাশপাশি ডুয়েল গেজ লাইন থাকছে। সেতুটির নির্মাণ কাজে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫শ’ ৬৭ কোটি টাকা।
আরও পড়ুন-
প্রশিক্ষণের পরও শাহজালালে বদলায়নি নিরাপত্তাকর্মীদের আচরণ
কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, পানিবন্দি ২০ হাজার মানুষ
/জেবি/এফএস/