পাহাড় ধসের আতংকে শতাধিক পরিবার: পুনর্বাসনে আশ্বাস প্রশাসনের

Hill Slides threatened Photo123

খাগড়াছড়িতে পাহাড় ধসের আতংকে আছে শতাধিক পরিবার। পাহাড় ধসের কারণে এরইমধ্যে অনেক পরিবারের সদস্যরা জানে বেঁচে গেলেও অনেকে হয়েছেন ঘরবাড়ি ছাড়া। এভাবে বৃষ্টি চলতে থাকলে সম্পদ নষ্টের পাশাপাশি প্রাণহানি আশঙ্কা করছেন অনেকে।

বর্ষাকাল আসলেই রাতের ঘুম হারাম হয়ে যায় খাগড়াছড়ি জেলার নয় উপজেলার বিভিন্ন এলাকার হাজার হাজার পরিবারের। কারণ এসব পরিবারের বসবাস পাহাড়ে চুড়ায়, পাদদেশে এবং পাহাড়ের নিচে।বছরের পর বছর পাহাড়ের ঝুঁকিতে বসবাস করলেও এই নিয়ে প্রশাসনের প্রাথমিক জরিপ ছাড়া আর কোনও উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ দেখা যায়নি।

প্রশাসন বলছে, খাগড়াছড়ি সদরে প্রায় ৩০০ পরিবার, মাটিরাঙা উপজেলায় প্রায় ২৫০ পরিবার, মানিকছড়িতে ১২০, লক্ষিছড়িতে ৬৫, রামগড়ে ৭৯, দিঘীনালায় ৭৫, পানছড়িতে ৭৫, দিঘীনালা উপজেলায় ৮০, গুইমারা উপজেলায় ১২০, মহালছড়িতে ১৩৭ পরিবার পাহাড় ধ্বসের আশংকায় আছে। গত কিছুদিন ধরে টানা বর্ষণে খাগড়াছড়ি শহরের শালবাগান, রসুলপুর, হরিনাথপাড়া, আঠারো পরিবার, আদর্শপাড়া, মধ্য শালবন, কুমিল্লাটিলা ও সবুজবাগ এলাকায় কমপক্ষে একশত বাড়িঘর ক্ষতির মুখে পড়েছে। এ ব্যাপারে তারা সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছে।

খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার শালবাগান এলাকার মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, টানা বর্ষণে তার এলাকায় কমপক্ষে ২০টি ঘর পাহাড় ধসে ও গাছ ভেঙে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চলমান বর্ষায় ক্ষতি বেশি হতে পারে উল্লেখ করে তিনি প্রশাসনের সুনজর কামনা করেন। এতে ঘর ভেংগে তিনি এবং তার মেয়ে আহত হয়েছেন।

একই এলাকার মোসা. রহিমা বেগম বলেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিতে বসবাস করছে। অনেকে অনেকবার তালিকা করে নিয়ে গেছে কিন্তু কখনো কোনও সাহায্য সহযোগিতা পাওয়া যায়নি।

 

পানছড়ি উপজেলার মোল্লাপাড়া এলাকার ছেলে মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, রাতে ভয়ে থাকেন কখন টিলা ভেংগে পড়ে, কখন পাহাড় ভেংগে পড়ে। ভয়ে ঘুমাতে পারেন না।

খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জান বলেন, যারা ঝুঁকিতে বসবাস করছে, পৌর মেয়রের সঙ্গে কথা বলে তালিকা তৈরি করে তাদের পূনর্বাসন করা হবে।

/জেবি/

আরো পড়তে পারেন : শিক্ষার্থীদের জঙ্গি-সন্ত্রাসবিরোধী শপথ বাক্য পাঠ করালেন কাজী নাবিল