মিরসরাই বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য ফেনীর সোনাগাজী অংশে ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু হয়েছে। সোমবার (৮আগস্ট) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কাজ শুরু করে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (বেপজা)। পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য ফেনী ও চট্টগ্রাম জেলা এলাকার বঙ্গোপসাগর, ছোট ও বড় ফেনী নদীর মোহনায় জেগে ওঠা চরে প্রয়োজনীয় ২০ হাজার একর জমি অধিগ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে এই জরিপ কাজ চলছে বলে জানা গেছে।
প্রাথমিক পর্যায়ে এই প্রকল্পের নির্মাণব্যয় ধরা হয়েছে ৮৬ হাজার কোটি টাকা। অধিগৃহীত অঞ্চলে ১শ’ মেগাওয়াট সৌর ও ১শ’ মেগাওয়াট বায়ুচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে একনেকের অনুমোদন নেওয়া হয়েছে। এছাড়া এই জমিতে গড়ে উঠবে বিমানবন্দর, মিনি নৌবন্দর, জাহাজ নির্মাণ শিল্প, অটোমোবাইলসহ ভারী শিল্প-কারখানা। স্থাপিত হবে ২০০টি কারখানা। এতে ফেনী- চটগ্রামের সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চলভিত্তিক অর্থনীতির নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। সৃষ্ট হবে প্রায় ১০ লাখ লোকের কর্মসংস্থান।
শিল্পাঞ্চলটি গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে ইতোমধ্যে ১১শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘সহায়ক প্রকল্প’ হাতে নিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। সাগরের লোনাপানি, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস থেকে শিল্পাঞ্চলকে রক্ষায় এই প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্প হিসেবে গুরুত্ব পেয়েছে।
পাউবোর প্রকল্পের আওতায় সাড়ে ১৯ কিলোমিটার চার লেন বিশিষ্ট সড়ক, বেড়িবাঁধ, প্রতিরক্ষাবাঁধ, নতুন খাল খনন, পুরনো খাল পুনঃখনন ও ৯টি স্লুইস গেইট স্থাপন করা হবে। এক হাজার ৮০ কোটি টাকার এই প্রকল্প পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পের ভূমি জরিপসহ প্রাথমিক পর্যায়ের কাজ শেষ হয়েছে।
সোনাগাজী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিদর্শী সম্বৌধি চাকমা জানান, বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের সচিব মনোয়ার হোসেন ইতোমধ্যে প্রস্তাবিত সৌর ও বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত স্থান চরচান্দিয়ার পূর্ব বড়ধলী পরিদর্শন করেছেন। বায়ু ও সৌর বিদ্যুতের জন্য প্রায় এক হাজার একর জমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে।
অধিগ্রহণকৃত জমি হচ্ছে, সোনাগাজীর আমিরাবাদ ও সদর ইউনিয়নের ৬৯ নম্বর থাক খোয়াজের লামছি মৌজায় এক হাজার ৫৪৩ একর, ৭০ নম্বর চরখোয়াজের লামছি মৌজায় ১৮৮ দশমিক ৮৮ একর, ৯৪ নম্বর খোন্দকার মৌজায় এক হাজার ৯৬১ দশমিক ৯২ একর, ৯৪/১০৩ নম্বর দক্ষিণ চর খন্দকার মৌজায় এক হাজার ৫৭৯ একর, ৯৩ নম্বর বাহিরচর মৌজায় ৬২৮ দশমিক ৯৯ একর, ২৩২ নম্বর চর রামনারায়ণ মৌজায় এক হাজার ৩১৮ একর ভূমি নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে এক হাজার ৭৫০ দশমিক ৫৬ একর জমি চূড়ান্ত হয়েছে। প্রথম ধাপে সাড়ে ৫শ’ একরে চলছে ভূমি উন্নয়নের কাজ।
ফেনীর জেলা প্রশাসক মো. আমিন উল আহসান জানান, এলাকাটি মূলত সাগর থেকে জেগে ওঠা চর। চরের যেসব এলাকা এখনও জরিপ হয়নি সেগুলো পর্চা ম্যাপের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর যেসব জমি জরিপ হয়ে গেছে সেগুলোর প্রায় সাড়ে সাত হাজার একর জমিতে ইতোমধ্যে অর্থনৈতিক অঞ্চল করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে ভূমি উন্নয়নের কাজ হচ্ছে সাড়ে ৫শ’ একর জমিতে।
ফেনী ২ আসনের সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে বাঁকা নদী সোজা করার কারণেই এখন সোনাগাজীর সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চলে জেগে উঠেছে বিশাল আয়তনের চর । এতে ফেনী জেলার আয়তন বেড়ে যাওয়ায় এই চরাঞ্চল মানুষের বিশাল কর্মযজ্ঞের স্থানে পরিণত হবে।
/এইচকে/
আরও পড়ুন: দেশের সর্ববৃহৎ অর্থনৈতিক জোনের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী