কাপ্তাইয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়লেও কমেনি রাঙামাটির লোডশেডিং

কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রটানা বৃষ্টির কারণে প্রতিদিনই বাড়ছে কাপ্তাই হ্রদের পানি। এতে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। তবে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ার পরও রাঙামাটিতে লোডশেডিং আগের মতোই চলছে।  

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক বছর পানির অভাবে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়নি। তবে গত ১০-১৫ দিন ধরে পানি বাড়ায় এই কেন্দ্রে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে।

এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৫টি ইউনিটের মধ্যে ৫নং ইউনিট দীর্ঘদিন থেকে মেরামত জটিলতার কারণে বন্ধ রয়েছে। গত শনিবারের (৩ সেপ্টেম্বর) রুলকার্ভ অনুযায়ী হ্রদে পানি থাকার কথা ৯৯ দশমিক ৪৬ এমএসএল (মিনস সি লেভেল)। কিন্তু এ সময় হ্রদে পানি রয়েছে ১০২ দশমিক ৭৬ এমএসএল।  ৪টি ইউনিটে বিদুৎ উৎপাদন হয়েছে ১৮৮ মেগাওয়াট। এ ৪টি ইউনিটের উৎপাদন ক্ষমতা ১৮০ মেগাওয়াট।

হ্রদে পানি ধারণ ক্ষমতা ১০৯ এমএসএল। তবে ভারি বৃষ্টিপাত হলে অতিরিক্ত পানি স্পিলওয়ের মাধ্যমে ছেড়ে দিতে হয়। এ সময় ৫নং ইউনিটটি চালু থাকলে আরও ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বেশি উৎপাদন করা সম্ভব হতো।

কাপ্তাই হাইড্রোলিক প্রজেক্টের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী আব্দুর রহমান জানান, কাপ্তাই হ্রদে এসময় স্বাভাবিক পানি থাকার কথা ছিল ৯৪ দশমিক ৪৪ এমএসএল (মিনস সি লেভেল)। কিন্তু কাপ্তাই হ্রদে এসময় অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে পানি রয়েছে  ১০২ দশমিক ৭৬ এমএসএল। যা প্রায় ১০ ফুট বেশি। এছাড়া প্রতিনিয়ত পাহাড় থেকে পানি নামছে। এজন্য কাপ্তাই হাইড্রোলিক প্রজেক্টের চারটি ইউনিটেই ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। এতে বেশ কয়েকদিন ধরে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে।

এদিকে রাঙামাটিতে লোডশেডিংয়ে কারণে জেলার অধিবাসীরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। আর রাঙামাটি বিদ্যুৎ বিভাগের দাবি, লোডশেডিং নয়, লোড ম্যানেজমেন্টের কারণেই এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

রাঙামাটি বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্র জানায়, রাঙামাটিতে বিদ্যুতের চাহিদা ৮ থেকে ৯ মেগাওয়াট। এই পরিমাণ বিদ্যুৎ সাধারণত কাপ্তাই কেন্দ্র থেকে সরবরাহ করা হয়। মাঝে মধ্যে বিদ্যুতের লাইনে বেশি সমস্যা হলে হাটহাজারি উপকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। হাটহাজারি থেকে যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয় তা দিয়ে শহরের একটি এলাকায় বিদ্যুৎ দেওয়া সম্ভব হয়। তাই রাঙামাটির বিদ্যুৎ সরবরাহ মূলত কাপ্তাই জল বিদ্যুৎ কেন্দ্রিক।

রাঙামাটি বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তপন কান্তি পাল জানান, বর্তমানে বিদ্যুৎ বিভ্রাট লোডশেডিংয়ের কারণে নয়, লোড ম্যানেজমেন্টের কারণে হচ্ছে। তিনি বলেন, কাপ্তাই কেন্দ্র থেকে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ আমাদের চাহিদা রয়েছে, সে পরিমাণ বিদ্যুৎ আমরা পাচ্ছি। কিন্তু চাহিদা কোনও কোনও সময় ১২ থেকে ১৩ মেগাওয়াটে  চলে যায়। এতে লোড ক্যাপাসিটির সমস্যায় জাতীয় গ্রিড থেকে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়। পাওয়ার গ্রিড করপোরেশন চট্টগ্রাম অফিস থেকে এটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় চালু করা হয়।

তিনি মনে করেন, এই সমস্যা থেকে উত্তরণে রাঙামাটিতে ১৩২ কেভি একটি সাবস্টেশন নির্মাণের কোনও বিকল্প নেই।

তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে সাবস্টেশনটি নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। ১৪ আগস্ট সারাদিন রাঙামাটিতে বিদ্যুৎ বন্ধ রেখে সাবস্টেশনের কাজ করেছে। সাবস্টেশনের কাজ শেষ করতে অন্তত দেড়-দুই বছর লেগে যাবে।

আরও পড়ুন- 

প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির ফাঁসিতে যে কারণে চুপ ছাত্রশিবির
রাজউকের উচ্ছেদ অভিযান: ঝুঁকির মুখে বিনিয়োগ

/এমডিপি/এফএস/