মাদক বিক্রির টাকার লেনদেন নিয়ে বিরোধের জেরে জোড়া খুন

 

কুমিল্লাকুমিল্লার বুড়িচংয়ে মাদক বিক্রির টাকার লেনদেন নিয়ে বিরোধের জের ধরে মোক্তার হোসেন ও সবুজ নামে দুই যুবককে পিটিয়ে এবং বৈদ্যুতিক শক দিয়ে হত্যার করা হয়েছিল। গত মঙ্গলবার (১৫ নভেম্বর) গভীর রাতে জেলার বুড়িচং থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে এ হত্যার দুই আসামি গোলাম কিবরিয়া (৩০) ও ইব্রাহিম খলিলকে (২৭) গ্রেফতার করে। তাদের দেওয়া স্বীকারোক্তিতেই বেরিয়ে আসে এ তথ্য। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকারসহ অন্যদের নাম প্রকাশ করে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যজিস্ট্রেট মো. তারেক আজিজের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবাবন্দি দিয়েছে বলে পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, ঢাকার মিরপুরে বসবাসরত ও টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর গ্রামের ক্বারী রোস্তম আলীর ছেলে মোক্তার হোসেন তার বন্ধু ঢাকার মিরপুরের কাজিপাড়াস্থ ইসলামীয়া ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও জেলার দেবিদ্বার উপজেলার আসাদনগর গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে হাফেজ সালমান খাঁন সবুজকে নিয়ে গত ৭ নভেম্বর জেলার বুড়িচং উপজেলার নিমসার গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে সাইফুলের বাড়িতে আসেন। দীর্ঘদিন সাইফুল ও মোক্তার হোসেনের মধ্যে মাদক ব্যবসার লেনদেন ছিল। এক পর্যায়ে মোক্তার হোসেন মাদক বিক্রির টাকার জন্য সাইফুলকে চাপ প্রোয়গ করে। এতে সাইফুল ক্ষিপ্ত হয়ে তার সহযোগী গ্রেফতারকৃত গোলাম কিবরিয়া ও ইব্রাহিম খলিলসহ অন্যদেরকে নিয়ে মোক্তার ও সবুজকে পিটিয়ে এবং বৈদ্যুতিক শক দিয়ে হত্যা করে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়।

মঙ্গলবার গভীর রাতে বুড়িচং থানার এসআই আবদুল হক ও এসআই সাইফুল ইসলাম ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযান চালিয়ে বুড়িচং উপজেলার মোকাম গ্রামের আবদুল বারেকের ছেলে গোলাম কিবরিয়া হাফেজ ও একই গ্রামের আবদুল লতিফের ছেলে ইব্রাহিম খলিলকে গ্রেফতার করে।

বুড়িচং থানার ওসি ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উত্তম কুমার বড়ুয়া বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, মাদক বিক্রির টাকার লেনদেনের বিরোধের জের ধরে এ জোড়া খুনের ঘটনা ঘটেছে। মামলায় গ্রেফতারকৃত গোলাম কিবরিয়া ও ইব্রাহিম খলিল আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তাদের সম্পৃক্ততাসহ অপর আসামিদেরর নাম প্রকাশ করেছে। অপর আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

/এআর/