মিতু হত্যা মামলায় বাবুলের খালাতো ভাইকে জিজ্ঞাসাবাদ

মাহমুদা খানম মিতু হত্যাকাণ্ডচট্টগ্রামে সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলায় বাবুলের খালাতো ভাই মো. সাইফুদ্দিনকে (৪০) জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) তদন্ত বিভাগের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কামরুজ্জামান তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

কামরুজ্জামান বলেন, ‘বাবুলের খালাতো ভাই সাইফুদ্দিন চট্টগ্রাম ইপিজেড এলাকায় কর্মরত একজন গার্মেন্টসকর্মী। তাকে মিতু হত্যার ঘটনায়  জিজ্ঞাসাবাদ করে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে তাকে সিএমপি অফিসে ডাকা হয় পরে পৌনে ৭টার দিকে ছেড়ে দেওয়া হয়।’ 

মিতু হত্যা ঘটনায় তদন্তের স্বার্থে অন্যান্য স্বজনদের মতোই সাইফুদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এর সঙ্গে অন্য কোনও কারণ জড়িত নয় বলে জানান এডিসি কামরুজ্জামান। 

এর আগে মিতু হত্যার ঘটনায় গত ২২ ডিসেম্বর বাবুলের শ্বশুর  মোশাররফ হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কামরুজ্জামান। আর ১৫ ডিসেম্বর বাবুল আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তখন কামরুজ্জামান বলেছিলেন, ‘আমরা এ হত্যাকাণ্ডে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছি। পুলিশ এ ব্যাপার নিয়ে কাজ করছে।’

প্রসঙ্গত, গত বছরের ৫ জুন সকালে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় চট্টগ্রামের জিইসি এলাকায় গুলি ও ছুরিকাঘাতে খুন হন এসপি বাবুলের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু। হত্যাকারীরা মোটরসাইকেলে এসেছিল। ঘটনার পর পুলিশ জানায়, জঙ্গি দমনে বাবুল আক্তারের সাহসী ভূমিকা ছিল। এ কারণে জঙ্গিরা তার স্ত্রীকে খুন করে থাকতে পারে। এ ঘটনায় পরদিন বাবুল আক্তার অজ্ঞাতপরিচয় তিন ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করেন।

এ হত্যাকাণ্ডে এখন পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে অভিযুক্ত দুই আসামি আনোয়ার এবং ওয়াসিম  হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবান্দবন্দি দিয়েছিলেন।

তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রামের বাকলিয়া এলাকা থেকে এহতেশামুল হক ভোলা ও  মনিরকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশের দাবি, মিতু হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আসামি ওয়াসিম ও আনোয়ারকে অস্ত্র এনে দেন ভোলা। হত্যাকাণ্ডের সময় ভোলাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

গত বছরের ৫ জুন মিতু হত্যাকাণ্ডের পর ২৫ জুন শ্বশুর বাড়ি থেকে বাবুল আক্তারকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে এ ঘটনায় তাকে গ্রেফতারের ১৫ ঘণ্টা পর ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে গত বছরের ৬ সেপ্টেম্বর পুলিশের এসপি পদ থেকে পতদ্যাগ করেন বাবুল আক্তার।

/এআর/এফএস/

আরও পড়ুন- 


নাসিরনগরে হামলা: ৪টি গাড়ি চেয়ে ফোন করেছিলেন চেয়ারম্যান আঁখি!