রসরাজের মামা ইন্দ্রজিত বলেন, ‘জেলাখানা থেকে বের হওয়ার পর তার কোনও চিকিৎসা হয়নি। তার শারীরিক অবস্থা খুব খারাপ। কোনও কিছু ঠিকভাবে খেতে পারে না, জ্বর। তাই ডাক্তারের কাছে নিয়ে এসেছি।’
রসরাজের বড় ভাই দয়াময় জানান, হরিপুরের ঘটনার পর থেকে তাদের বিলে মাছ ধরার কাজ বন্ধ রয়েছে। তারা কেউ কাজে যাচ্ছেন না। অভাব অনটনে চলছে তাদের পরিবার। এ অবস্থায় রসরাজের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় সব মিলিয়ে বিপাকে আছেন তারা।
দয়াময় বলেন, ‘ধার-দেনা করে রসরাজকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে এসেছি। এভাবে আর কতদিন চলবে? কোনও উপায়ও খুঁজে পাচ্ছি না।’
চিকিৎসকের চেম্বারে রসরাজ দাস জানান, ২৯ অক্টোবর ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে অহেতুক তাকে বেধড়ক পেটানো হয়। এ ঘটনার পর তিনি দীর্ঘদিন জেলহাজতে ছিলেন। সেখানে তার চিকিৎসা হয়নি। এখন গলা, বুকসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় তীব্র ব্যথা নিয়ে চিকিৎসকের কাছে এসেছেন।
অন্যায় না করেও শারীরিক নির্যাতনের শিকার রসরাজ আক্ষেপ করে বলেন,‘আমার অবস্থা খুব খারাপ। বেঁচে থাকার চেয়ে মরে যাওয়া আমার জন্য ভালো ছিল।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সেন্ট্রাল ল্যাব প্রাইভেট হাসপাতালের চিকিৎসক ডা.মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, রসরাজের শরীরের বিভিন্ন অংশে ব্যাথা আছে। তাকে দুই সপ্তাহের ওষুধ দেওয়া হয়েছে। সঙ্গে কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দুই সপ্তাহ পরে তার শারীরিক পরিস্থিতি আবারও দেখা হবে।’
উল্লেখ্য, গত ২৯ অক্টোবর ফেসবুকে ইসলাম ধর্ম অবমাননার ঘটনার অভিযোগ এনে রসরাজ দাসকে নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর গ্রামের একদল লোক বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পরে ৩০ অক্টোবর তথ্য প্রযুক্তি আইনে গ্রেফতার দেখিয়ে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠায় নাসিরনগর থানা পুলিশ। পরে দীর্ঘ আড়াই মাস জেলহাজতে বন্দি ছিলেন রসরাজ। পুলিশের ফরেনসিক রিপোর্ট অনুযায়ী রসরাজ দাসের মোবাইল থেকে ধর্ম অবমাননার ছবি আপলোডের কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফরেনসিক রিপোর্ট আদালতে উপস্থাপনের পর পরবর্তী পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল না হওয়া পর্যন্ত গত ১৬ জানুয়ারি রসরাজ দাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন বিচারক।
/বিটি/টিএন/
আরও পড়ুন:
প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী ভ্যান যাচ্ছে জাদুঘরে, ভ্যানচালক বিমান বাহিনীতে
‘খুলি না পাঠালেও মেডিক্যাল রিপোর্ট পাঠিয়েছিলাম’