৭ দিনেও খোঁজ মিলেনি মুফতি মোস্তাকুন্নবীসহ তিন জনের

নিখোঁজ মুফতি মাওলানা মোস্তাকুন্নবী কাশেমীকুমিল্লা কোটবাড়ি সুধন্যপুর মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুফতি মাওলানা মোস্তাকুন্নবী কাশেমীসহ তিন জন নিখোঁজ হওয়ার ৭ দিন পার হলেও তাদের কোনও সন্ধান মেলেনি। ২১ মে রাতে সাড়ে বারোটার পর থেকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিছিন্ন হয় নিখোঁজ কাশেমীর। এরপর দিন ২২ মে রাতে মোবাইল ফোনে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে। নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে র‌্যাব, পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা সংস্থা।
কুমিল্লা র‌্যাব-১১ এর অধিনায়ক মেজর মোস্তফা কায়জার বলেন, ‘মোস্তাকুন্নবী কাশেমী, তার গাড়িচালক ও এক ছাত্র নিখোঁজের পর পরই আমাদের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ করেন মুফতির ঘনিষ্টজন হাজী শফিকুল ইসলাম। তারপর র‌্যাব তিন জনের মোবাইল ফোন ট্র্যাকিং করে অবস্থান জানতে পারেনি। নিখোঁজ ওই ৩ জনের মোবাইল ফোন ২১ মে রাত ১টার আগেই বন্ধ হয়ে যায়।’
র‌্যাব কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘আমরা সব ধরনের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সর্বাত্মক চেষ্টা করছি, তা অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া মুক্তিপণ দাবি করা মোবাইল ফোনও ট্র্যাকিং করা হয়েছে। কিন্তু কোনও অবস্থান জানা যায়নি। মোবাইল ফোন ট্র্যাকিং ও তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।’
এ বিষয়ে সদর দক্ষিণ মডেল থানা ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, ‘কাশেমীসহ তিন জন নিখোঁজের পর মুফতি মাওলানা মোস্তকুন্নবী কাশেমীর মাদ্রাসার সভাপতি হাজী শফিকুল ইসলাম সদর দক্ষিণ মডেল থানায় জিডি করেছেন। এরপর তাদেরকে খুঁজে বের করার জন্য আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছি।’
এ ব্যাপারে কুমিল্লা জেলা ক্বওমী মাদ্রাসা সংগঠনের সভাপতি ও ক্বওমী মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের সিনিয়র সহ-সভাপতি শাইখুল হাদিস আল্লামা আশরাফ আলী জানান, নিখোঁজ তিনজনকে উদ্ধারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সঙ্গে কথা বলেছেন। মন্ত্রী তাকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার তুমচর গ্রামের বাসিন্দা মুফতি মাওলানা মোস্তাকুন্নবী ২১ রাতে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থেকে ওয়াজ মাহফিল শেষে তার সহযোগী ছাত্র খায়রুল ইসলামসহ একটি প্রাইভেটকারে (ঢাকা মেট্রো-গ-১১-২০৭১) করে কুমিল্লার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। রাত সাড়ে ১২টার দিকে তারা কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ারবাজার এলাকায় পৌঁছান। ওই সময় পর্যন্ত তাদের সঙ্গে পরিবারের লোকজনের মোবাইল ফোনে কথা হয়েছিল। এরপর থেকে তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় পরিবারের লোকজন কোনও যোগাযোগ করতে পারেননি।

/এএ/