খাগড়াছড়িতে পাহাড় ধস আতঙ্কে শতাধিক পরিবার: পুনর্বাসনের আশ্বাস প্রশাসনের

খাগড়াছড়িতে পাহাড় ধস আতঙ্কে শতাধিক পরিবার( ছবি- খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি)

খাগড়াছড়িতে টানা বর্ষণের কারণে পাহাড় ধসের আতঙ্কে আছে কয়েক হাজার পরিবার। পাহাড় ধস থেকে অনেক পরিবার প্রাণে বেঁচে গেলেও ঘরবাড়ি ছাড়া হয়েছেন অনেকে। এভাবে টানা বৃষ্টি চলতে থাকলে সম্পদ নষ্টের পাশাপাশি প্রাণহানীর আশঙ্কা করেছেন অনেকে।

বর্ষাকাল আসলেই অনেকের রাতের ঘুম হারাম হয়ে যায়। কারণ এসব পরিবারের বসবাস পাহাড়ে চূড়া অথবা নিচে। পরিবারগুলোর অভিযোগ বছরের পর বছর ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করলেও প্রাথমিক জরিপ ছাড়া এ পর্যন্ত প্রশাসনের তেমন কোনও উদ্যোগ দেখেনি তারা।

প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খাগড়াছড়ি সদরে প্রায় ৩০০ পরিবার, মাটিরাঙা উপজেলায় প্রায় ২৫০ পরিবার, মানিকছড়িতে ১২০, লক্ষিছড়িতে ৬৫, রামগড়ে ৭৯, দিঘীনালায় ৭৫, পানছড়িতে ৭৫, দিঘীনালা উপজেলায় ৮০, গুইমারা উপজেলায় ১২০, মহালছড়িতে ১৩৭ পরিবার পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে। কয়েক দিনের টানা বর্ষণে খাগড়াছড়ি শহরের শালবাগান, রসুলপুর, হরিনাথপাড়া, আঠারো পরিবার, আদর্শপাড়া, মধ্য শালবন, কুমিল্লা টিলা ও সবুজবাগ এলাকার কমপক্ষে একশ’ বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার শালবাগান এলাকার আবদুল্লাহ আল মামুন জানান,  টানা বর্ষণে তার এলাকায় কমপক্ষে ২০টি ঘরের উপর পাহাড় এবং গাছ ভেঙে পড়েছে। চলমান বর্ষায় ক্ষতি বেশি হতে পারে উল্লেখ করে তিনি প্রশাসনের সুনজর কামনা করেন।

একই এলাকার মো. রমজান আলী জানান, তারা দীর্ঘ দিন ধরে ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছে। কয়েকবার তালিকা করে নিয়ে গেলেও, কখনো কোনও সাহায্য সহযোগিতা পাওয়া যায়নি।

 পানছড়ি উপজেলার মোল্লাপাড়া এলাকার ছেলে মো. রফিকুল ইসলাম জানান, রাতে ভয়ে থাকেন কখন টিলা ভেঙে পড়ে, কখন পাহাড় ভেঙে পড়ে।  ঘুমাতে পারেন না।

রামগড় উপজেলার পূর্ব চৌধুরী পাড়া এলাকার বাসিন্দা মোশারফ হোসেন জানান, সরকার দলীয় স্থানীয় লোকজন পাহাড় কেটে এ এলাকাকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।

খাগড়াছড়ি পরিবেশ আন্দোলন ফোরামের সভাপতি আবু তাহের মোহাম্মদ বলেন, খাগড়াছড়ি জেলার প্রত্যেক উপজেলায় প্রভাবশালীরা পাহাড় কেটে বিভিন্ন স্থাপনা তৈরি করায় অনেকেই ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছে। এসব বিষয় নিয়ে বিভিন্ন সময় অভিযোগ করলেও প্রশাসন আমলে নেয় না। যখন লোকজন মরে তখন প্রশাসনের টনক নড়ে। তিনি এ ব্যাপারে আগাম ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, ঝুঁকিতে বসবাসকারীদের  তালিকা তৈরি করা হবে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে তালিকা তৈরি করতে বলা হবে। যারা বেশি ঝুঁকিতে আছে তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পূণর্বাসন করা হবে।

/জেবি/

আরও পড়তে পারেন: বাবা ও ছেলের হত্যা মামলায় ৩ জনের যাবজ্জীবন