শহরের ভেদভেদী বিএডিসি ভবনে আশ্রয়কেন্দ্রে আবস্থান নেওয়া আমেনা বেগম বলেন, ‘সন্ধ্যায় রাতের খাবার দিয়ে যায়। সেই খাবার সেহরিতে নষ্ট হয়ে যায়। তাই রোজা রাখা সম্ভব হচ্ছে না অনেকের। আলাদাভাবে কোনও ইফতারেরও ব্যবস্থা করা হয় না। তবে এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা রাতে মশার উপদ্রব। মশার কারণে রাতে ঘুমানোই যায় না। যদি মশারির ব্যবস্থা করা না হয় তাহলে সবাই অসুস্থ হয়ে পড়বে।’
ভেদভেদী রেডিও ভবন আশ্রয়কেন্দ্রে আবস্থান নেওয়া শামসুল ইসলাম বলেন, ‘ইফতারের জন্য কিছু সংগঠন খাবার দিয়ে যায় মাঝে মধ্যে। না দিলে খাই না। সন্ধ্যায় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে রাতের খাবার দিয়ে যায়। শিশুদের জন্য সকালে চিড়া, মুড়ি, বিস্কুট দেয়। কিন্তু শিশুরা খেতে চায় না। তারপর আর কী করার। আমাদের কাছে এখন তো টাকা নাই যে কিনে খাওয়াবো।’
রাঙামাটি জোনের মেজর মো. এনাম জানান, ‘আমরা শুধু দুপুরের খাবার ও রাতের খাবারের ব্যবস্থা করি। ইফতার ও সেহরির কোনও ব্যবস্থা আমরা করি নাই। জেলা প্রশাসন থেকে আমাদের এই বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। আর এই বিষয়ে কোনও অভিযোগও পাইনি।’
রাঙামাটি জেলায় বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের পক্ষ থেকে নিয়ে আসা ত্রাণ বিতরণে জেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগও উঠেছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের ত্রাণ বিতরণে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ত্রাণ বিতরণ করতে আসা লোকজন। এ বিষয়ে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মো. মানজারুল মান্নান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘খাদ্য অনেক আছে। যদি অন্য কিছু দিতে চায়, আমাদের সঙ্গে সমন্বয় করে দিতে হবে। দিতে দেওয়া হচ্ছে না এটা অসত্য কথা। যাই আনবে আমাদের সঙ্গে কথা বলবে, আমরা যেখানে দিতে বলবো- সেখানে দিতে হবে। আমরা কাউকে নিষেধ করছি না। তবে কোনও খাদ্যদ্রব্য আনার দরকার নাই। সরকার পর্যাপ্ত বরাদ্দ দিয়েছে। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। সেখানে যা জমা হচ্ছে, সেটা তাদের সাহায্যার্থেই খরচ করা হবে।’
আশ্রয়কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করে দেখা যায়, স্বাস্থ্য বিভাগের মেডিক্যাল টিম আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থানরতদের স্বাস্থ্য সেবা দিচ্ছেন।
এদিকে সেনাবাহিনী ও সড়ক বিভাগ রাঙামাটিতে সড়ক মেরামতের কাজে নিয়োজিত রয়েছে। আশা করা হচ্ছে, দু’একদিনের মধ্যে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম প্রধান সড়কে হালকা যানবাহন চলাচল করতে পারবে। এছাড়া অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে।
উল্লেখ্য গত ১২ জুন পাহাড় ধসের ঘটনায় রাঙামাটি জেলায় ১১৮ জনের প্রাণহানির খবর নিশ্চিত করেছেন প্রশাসন।
/এফএস/
আরও পড়ুন-