নাম বাদ যাওয়ার ভয়ে আশ্রয়কেন্দ্র ছাড়ছেন না তারা

পাহাড় ধসের পর আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া বিভিন্ন পরিবারের সদস্যরাঙামাটিতে জুনে ভয়াবহ পাহাড় ধসে কারও বাড়িঘর একেবারেই ধসে গেছে। কেউ হারিয়েছেন আংশিক। মাথা গুঁজতে ক্ষতিগ্রস্তরা ঠাঁই নেন আশ্রয় কেন্দ্রগুলোয়। প্রথম দিকে আশ্রয়কেন্দ্র থাকা লোকজনের সংখ্যা ছিল তিন হাজারের বেশি। রোজার ঈদের পর তা কমে দাঁড়ায় দেড় হাজারে। তবে দেড় মাস পার হলেও এখনও অনেকে রয়ে গেছেন আশ্রয়কেন্দ্রে। তালিকা থেকে নাম বাদ যাবে-এই ভয়ে তারা আশ্রয়কেন্দ্র ছাড়ছেন না।

শনিবার (৫ আগস্ট) সরেজমিনে আশ্রয়কেন্দ্র ঘুরে ও সেখানে থাকা লোকজনের সঙ্গে কথা বলে একথা জানা গেছে। রাঙামাটি মেডিক্যাল কলেজের নবনির্মিত ছাত্রাবাসের আশ্রয়কেন্দ্রে কথা হয় দিলোওয়ারা বেগম,সাদিয়া খাতুন,আরফা বেগম, নুরজাহান বেগম ও আবদুল আলীর সঙ্গে। তারা সবাই একবাক্যে বলেন, ‘আশ্রয়কেন্দ্র থেকে চলে গেলে তালিকা থেকে নাম বাদ পড়বে। তাইতো কষ্ট হলেও আশ্রয় কেন্দ্রে থাকছি।’

শহরের মন্ত্রীপাড়া এলাকার বয়োবৃদ্ধ আবদুল আলী পাহাড় ধসের পর স্ত্রীকে নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে এসে ওঠেন। তার বাসার ওপর একটি গাছ ভেঙে পড়ে। এতে ঘরের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আবদুল আলী আশ্রয়কেন্দ্রে থাকতে অস্বস্থিবোধ করছেন। তারপরও আছেন স্ত্রীর অনুরোধে।রাঙামাটিতে আশয়কেন্দ্রে অবস্থানকারী লোকজন

তিনি বলেন, ‘এখানে হইচই এর মধ্যে ভালো লাগে না। ভালোমত নামাজও আদায় করতে পারি না। বাসা তেমন একটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। তারপরও এখানে থাকতে হচ্ছে। বউ বলছে, আশ্রয় কেন্দ্রে না থাকলে তালিকা থেকে নাম বাদ পড়বে।’

একই কথা আবুল কালাম, খাদিজা বেগম,শামসুন নাহার ও জয়নাল আবেদিনের।

কলেজ গেইট এলাকার নুরজাহান বেগম ২০ বছর ধরে ভাড়া থাকতেন মো. আলীর বাসায়। দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। পাহাড় ধসে মো. আলীর বাড়িঘর ভেঙে গেছে। আর তখন থেকেই আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছে স্বামী-স্ত্রী দুজন। নুরজাহান বেগম বলেন,‘আশ্রয়কেন্দ্রে আছি বলে অন্তত দুবেলা খেতে পারছি।’রাঙামাটিতে আশয়কেন্দ্রে অবস্থানকারী লোকজন

আশ্রয়কেন্দ্রে এসে দিনে ও রাতের বেলায় খাবার নিয়ে যান কিন্তু রাতে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকেন না এমন সংখ্যাও কম নয়। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত অনেক লোকজন তাদের বাড়িতে ফিরে গেছেন। তারপরেও কেন আশ্রয়কেন্দ্রে এসে খাবার নিয়ে যান এমন প্রশ্নের জবাবে তারা জানান,একদিন আশ্রয়কেন্দ্রে না এলে তাদের নাম তালিকা থেকে বাদ যাবে। ক্ষতিপূরণ পাবেন না। এই আশঙ্কায় তারা আশ্রয়কেন্দ্রে আসেন নিয়মিত।

কলেজ গেট এলাকার কুলসুম বলেন, ‘আমরা পরিবারে মোট ৮ জন। আমার বোনের দুই ছেলে-মেয়ে। আশ্রয়কেন্দ্রে প্রতিদিন এসে খাবার নিয়ে যাই। কারণ আশ্রয়কেন্দ্রে না আসলে তালিকা থেকে নাম বাদ যেতে পারে। তাই প্রতিদিন এসে খাবার নিয়ে যাই।’

ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, জেলা প্রশাসক থেকে এসে যদি কেউ আশ্বস্ত করেন-আশ্রয়কেন্দ্রে না থাকলেও ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে তাহলে তারা ঘরে ফিরে যাবেন।

রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান বলেন,‘আশ্রয়কেন্দ্রে যারা অবস্থান নিয়েছেন তারা যদি মনে করেন, আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে চলে গেলে তালিকা থেকে নাম বাদ পড়বে তাহলে সেটা এটা ভুল ধারণা। তালিকায় যাদের নাম রয়েছে বর্ষা মৌসুম শেষে প্রত্যেককে পুনর্বাসন করা হবে। তালিকা অনুযায়ী প্রত্যেককে সহযোগিতা করা হবে।’

/এসটি/এফএস/ 

আরও পড়ুন- ‘ঘরবাড়ি চাই না, কাজ চাই’