রাঙামাটি থেকে চট্টগ্রামগামী যাত্রী টুটুল নন্দী বলেন, ‘চট্টগ্রাম থেকে রাঙামাটি আসার পথে ঘাগড়ায় নামিয়ে দেওয়া হলো। সেখান থেকে অটোরিকশায় রাঙামাটি আসলাম। আসার পথে ব্যাগ টানাটানি তারপর আবার ভাড়াও বেশি যাচ্ছে।’
মৎস্য ব্যবসায়ী ধন ত্রিপুরা বলেন, ‘রাস্তার কাজ এখনও শেষ হয়নি। বিকল্প যে পথ তৈরি করা হয়েছে এতে এক টনের বেশি বড় গাড়ি চলাচল করতে দেওয়া হচ্ছে না। ফলে আমাদের ছোট গাড়ি ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে আমাদের পরিবহন খরচ বেশি হচ্ছে।’
বিআরটিসি রাঙামাটির প্রতিনিধি খোকন কুমার দে জানান, এখনও রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কে ভারি যান চলাচল শুরু না হওয়ায় গাড়িগুলো বেকার বসে আছে। স্টাফরা মানবেতর জীবনযাপন করছে।
খাগড়াছড়ি রুটে চলাচলকারী গাড়িচালক মো.শাহ আলম বলেন, ‘বড় গাড়ি বন্ধ থাকায় খুব কষ্টে আছি। এক বেলা খেলে আরেক বেলা না খেয়ে থাকতে হচ্ছে। ছোট গাড়ি চলাচল করছে কিন্তু সেগুলো তো আমরা চালাই না। এভাবে আর কতদিন থাকতে হবে জানি না।’
লঞ্চ ও বাস মালিক সমিতির সভাপতি মঈন উদ্দিন সেলিম বলেন, ‘সড়ক জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আমাদের আশ্বস্ত করেছেন কোরবানির ঈদের আগে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়ক ভারি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে। এছাড়া দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়ক ভারি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই দুই মাসে আমাদের গাড়ি ব্যবসায় যে লোকসান হয়েছে তা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না। অনেক মালিকের গাড়ি বিক্রি করে দেওয়ার অবস্থা হয়েছে।’
রাঙামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. এমদাদ হোসেন বলেন, যেভাবে বৃষ্টি শুরু হয়েছে তা আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকলে কাজ করা কঠিন হবে। তবে বৃষ্টি থেমে গেলে ঈদের আগেই রাঙামাটি-চট্টগ্রামের রাস্তাটি খুলে দিতে পারবো ভারি যান চলাচলের জন্য।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ জুন পাহাড় ধসে ১২০ জন প্রাণ হারানোর পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাড়ে ১৮ হাজার পরিবার। সম্পূর্ন বিধ্বস্ত হয় ১ হাজার ২৩১টি বাড়ি, আংশিক বিধ্বস্ত বাড়ির সংখ্যা ৯ হাজার ৫০০। বাকিগুলো নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। ধসের শিকার পরিবারগুলোর বেশির ভাগই এখনও আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে খাবারের জোগান দিচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন।
/বিএল/