প্রাথমিক বিদ্যালয়
পাহাড় ধসে রাঙামাটি জেলা শহরে ৫০টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে রাঙামাটি সদরে দেপ্পোয়াছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি লেখাপড়ার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। লংগদুতে দুটি বিদ্যালয়েল বারান্দা বিধ্বস্ত হয়েছে। বিলাইছড়িতে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া জুড়াছড়িতে ১৬টি বিদ্যালয়ে পানিতে ডুবে আসবাবপত্র, মেঝে, টয়লেট এবং বাউন্ডারি নষ্ট হয়েছে। বাকিগুলো বিদ্যালয়ে ভূমি ধসে ছাদে ফাটল ও পিলারের মাটি সরে গিয়ে বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে।
দেপ্পোয়াছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মনি চাকমা বলেন, পাহাড় ধসের পর আমাদের পড়ালেখা বন্ধ হয়ে গেছে। এখন আর আগের মতো ক্লাস হয় না। আমরা সরকারের কাছে জোর দাবি করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে আমাদের বিদ্যালয়টি সংস্কার করে দেওয়া হোউক।
এদিকে ভূমি ধসের কারণে মাটিচাপায় রাঙামাটি সদরে ভেদভেদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২ জন, কাউখালি উপজেলার চৌধুরীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১ জন, বাকছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১ জন ও কাপ্তাই উপজেলার রাইখালি রিফিউজি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১ জন ছাত্রী মারা যায়।
জেলা প্রথামিক শিক্ষা অফিসার রওশন আলী বলেন, ‘রাঙামাটি জেলায় মোট ৬০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং ৫ জন ছাত্রী ভূমি ধসের কারণে মাটিচাপায় মারা যায়। বিদ্যালয় সংস্কারের জন্য জেলা পরিষদ ও প্রাথমিক শিক্ষা অদিদফতরের কাছে আমরা প্রাক বাজেট উপস্থাপন করেছি। আমাদের প্রয়োজন প্রায় ৩ কোটি ৮৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। যখন বরাদ্দ পাওয়া যাবে তখনই সংস্কারের কাজ অথবা পুনঃ নির্মাণের কাজ শুরু করা যাবে।’
মাধ্যমিক বিদ্যালয়
এদিকে পাহাড় ধসের কারণে কাউখালি উপজেলার ঘাগড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের ১টি শ্রেণিকক্ষ ভেঙে গেছে। ঘাগড়া বলিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পানি ঢুকে সব আসবাবপত্র, বিদ্যালেয় রিং ওয়েল ও পাম্প মোটর জেট নষ্ট হয়ে গেছে। মাটি ধসে নাইল্যাছড়ি নিম্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দুটি কক্ষ ব্যবহারের অনুপযোগী হয়েছে। এছাড়া রাঙামাটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে অডিটোরিয়ামের পূর্ব পাশের ১৫০ ফুট সীমানা প্রাচীর, প্রধান শিক্ষকের অফিসের ভবনের দক্ষিণ পাশের ৫০ ফুট সীমানা প্রাচীর, প্রধান শিক্ষকের বাস ভবনের চতুর্দিকের ২০০ ফুট সীমানা প্রচীরসহ পাহাড় ধস হয়েছে। ভূমি ধসে এভাবে প্রতিটি বিদ্যালয় সীমানা প্রাচীর ও গাইড দেওয়ালসহ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
নাইল্যাছড়ি নিম্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী মিনা মারমা বলেন, ক্লাসরুম কম থাকায় আমাদের গাদাগাদি করে বসতে হয়। এতে আমাদের পড়াশুনায় কষ্ট হয়। দ্রুত আমাদের বিদ্যালয়টি ঠিক করে দিলে আমাদের পড়াশুনার সুবিধা হবে।
ঘাগড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির ছাত্রী আনুচিং মারমা বলেন, পাহাড় ধসে আমাদের বিদ্যালয়ের খেলার মাঠটি নষ্ট হয়ে গেছে। আমরা গত বছরের বঙ্গবন্ধু বঙ্গমাতা ফুটবল খেলায় ন্যাশনাল টিমের চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলাম। কিন্তু এবার কী হবে জানি না। মাঠের কারনে আমাদের প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বিদ্যালয় সংস্কারের সঙ্গে সঙ্গে মাঠটি সংস্কার করে দিলে আমাদের পড়ালেখা ও খেলাধুলার সুবিধা হতো।
নাইল্যাছড়ি নিম্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজগর আলী বলেন, ‘আমাদের বিদ্যালয়ে প্রায় ৪২৫ জনের মত ছাত্র-ছাত্রী আছে। বৃষ্টি পড়লে এখন ভয়ে ছাত্র-ছাত্রী আর স্কুলে আসতে চায় না। পাহাড় ধসে আমাদের অফিস রুমটি বিধ্বস্ত হয়েছে। বিদ্যালয়েল জরুরি কাগজপত্র সব নষ্ট হয়ে গেছে। এখন ক্লাস নিতে আমাদের কষ্ট হয়। সরকারের যদি জরুরিভাবেআর্থিক বরাদ্দ দিয়ে বিদ্যালয়টি সংস্কার করে দেয় তাহলে এই প্রত্যন্ত অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া মানুষগুলোর শিক্ষার আলো প্রসারে অগ্রগতি হবে।’
জেলা শিক্ষা অফিসার উত্তম খীসা বলেন, ‘ভূমি ধসে বিদ্যালয়গুলো ক্ষয়ক্ষতি প্রায় ৪০ কোটি টাকার মতো। ১৩টি ভবন জরুরি ভিত্তেতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। বাকি ১১টি ভবন বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ। এগুলো সংস্কারে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে শিক্ষা অধিদফতরে ও শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগকে জানিয়েছি। আশা করছি খুব দ্রুত কাজ সংস্কার অথবা পুনঃনির্মাণ শুরু করা যাবে।’