পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সাগর ওষুধ কিনতে কুমেক হাসপাতালের একটি ফার্মেসিতে যান। ফার্মেসির বিক্রেতা তোফাজ্জল হোসেনকে ‘মামা’ বলে সম্বোধন করেন সাগর। এমন সম্বোধনে দোকানদার তোফাজ্জল হোসেন ক্ষুব্ধ হন এবং উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এসময় কুমেকের তিন শিক্ষার্থীকে বহিরাগত ব্যবসায়ীরা আটকে রেখে কিছুক্ষণ পর ছেড়ে দেয়।
পরে আটককৃত তিন শিক্ষার্থী ক্ষুদ্ধ হয়ে কুমেকের শিক্ষার্থীদের নিয়ে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ জানাতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে করে কুমেক শিক্ষার্থীসহ উভয়পক্ষের অন্তত ৯/১০ আহত হয় পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে ঘটনাস্থল থেকে এমডি ফার্মেসির বিক্রেতা তোফাজ্জল হোসেনকে আটক করে পুলিশ। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা কলেজ গেটে অবস্থান নিয়ে প্রায় আধঘন্টা রাস্তা অবরোধ করে রাখলে হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যহত হয় এবং ভোগান্তিতে পড়েন মুমূর্ষু রোগীরা।
কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মহসিন উজ জামান চৌধুরী জানান, ‘২৬তম ব্যাচের একজন শিক্ষার্থী ওষুধ কিনতে গিয়ে দোকানদারকে মামা বলে সম্বোধন করলে উভয়ের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। পরে স্থানীয় দোকানদাররা সংঘটিত হয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে আমাদের ৯/১০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। বহিরাগত ব্যবসায়ীরা কয়েকজন শিক্ষার্থীকে আটকে রেখে পরে ছেড়ে দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।’
কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু ছালাম মিয়া জানান, “মামা’ বলে সম্বোধন করায় উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরে দোকানদের সঙ্গে স্থানীয়রা যোগ দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। অভিযুক্ত দোকানদারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। পরে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আরও পড়ুন- ‘ধর্ষক’ তুফানের বিরুদ্ধে চার্জশিট