ছয় মাস আগেই চালু হচ্ছে দেশের প্রথম ছয় লেন ফ্লাইওভার

মহিপাল ফ্লাইওভারফেনীর মহিপালে দেশের প্রথম ছয় লেন ফ্লাইওভার চালু হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই  উড়ালসেতুর উদ্বোধন করবেন। মহিপাল ফ্লাইওভার ছয় লেনের হলেও সেতুর নিচের দুই পাশে আরও চার সার্ভিস লেন চালু থাকবে। এটি চালু হলে যানজট নিরসন হবে, ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়কে চলাচলকারী যাত্রীদের ভোগান্তি কমবে এবং এক থেকে দেড় ঘণ্টা সময় বাঁচবে। নির্ধারিত সময়ের ছয় মাস আগেই এই ফ্লাইওভার চালু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

বাংলা ট্রিবিউনকে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ের ছয় মাস আগেই কাজ সম্পন্ন হওয়ায় উদ্বোধন হতে চলেছে মহিপাল ফ্লাইওভারটির। এর মাধ্যমে ফেনীবাসীসহ ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়কে চলাচলকারী যাত্রীদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হয়েছে। ফ্লাইওভার চালুর পাশাপাশি এই মহাসড়কের ছোটখাট আরও কয়েকটি সমস্যার দ্রুত সমাধান করা হবে।’

প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থার সহযোগী আবদুল মোমেন লিমিটেডের পরিচালক আক্তারুজ্জমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৯ ইঞ্জিনিয়ার কন্সট্রাকশন লিমিটেডের তত্ত্বাবধানে  মহিপাল ফ্লাইওভারের নির্মাণকাজ করা হয়েছে। ৬৯০ মিটার দীর্ঘ এবং ২৪ দশমিক ৬২ মিটার প্রশস্ত এই ফ্লাইওভারের নির্মাণকাজে প্রায় ১৮২ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। ২০১৫ সালের নভেম্বরে নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হওয়ার নির্ধারিত সময় ছিল ২০১৮ সালের জুনে। প্রায় ছয় মাস আগেই মহিপাল ফ্লাইওভারটির কাজ সম্পন্ন হয়ে গেছে।’মহিপাল ফ্লাইওভার

স্থানীয় এলাকাবাসী ও মহাসড়কে চলাচলকারী যাত্রীরা জানান, এই ফ্লাইওভার ব্যবহার করে ঢাকা-চট্টগ্রামের গাড়িগুলো দ্রুত গন্তব্যে চলে যেতে পারবে। এতে করে সময় যেমন বাঁচবে, তেমনি যানজটেও পড়তে হবে না। অপরদিকে ফ্লাইওভারের নিচ দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রামগামী ছোট পরিবহন চলাচলের পাশাপাশি মহিপাল হয়ে বৃহত্তর নোয়াখালী ও অন্যান্য দূরপাল্লার রুটের গাড়িগুলো চলাচল করতে পারবে। মহিপাল অংশে আগে যানজট সৃষ্টি হলেও ফ্লাইওভারটি চালু হলে মহিপালে গাড়ির চাপ আগের চাইতে অনেক কমে যাবে বলে তারা আশা করছেন।

এদিকে ফেনীর মহিপাল ফ্লাইওভারের কাছাকাছি এলাকায় বসবাসকারী মাঈন উদ্দিন, জামশেদুর রহমান, আব্দুল খালেকসহ আরও কয়েকজন জানান, ফ্লাইওভারের কারণে তাদের যাতায়াতের দূরত্ব বেড়ে গেছে। তাই যাতায়াত সহজ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান।দেশের প্রথম ছয় লেন ফ্লাইওভার

ছয় লেন উড়ালসেতু প্রকল্পের নকশা প্রণয়নকারী বুয়েটের সাবেক শিক্ষক আজাদুর রহমান বলেন, ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কটি অর্থনৈতিকভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক। বন্দর নগরী চট্টগ্রামের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার সড়ক পথে যোগাযোগ যুগোপযোগী, সহজতর, দ্রুত, যানজটমুক্ত ও উন্নততর করার লক্ষ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়ক নির্মিত এ ফ্লাইওভারটি বাস্তবায়নের ফলে ঢাকা-চট্টগ্রামের সড়ক যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থা দ্রুততর, নিরাপদ, যানজটমুক্ত ও সহজতর হলো। যা জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা বহন করবে।’
জেলা পরিবহন মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন বুলবুল বলেন, ‘প্রথম ছয় লেন মহিপাল ফ্লাইওভার  খুলে দেওয়ার মধ্যে দিয়ে ফেনীবাসীসহ ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়কে চলাচলকারী যাত্রীদের দীর্ঘ দিনের দাবি পূরণ করায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ।’

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যাত্রাবাড়ী থেকে কাঁচপুর অংশ ইতোমধ্যে আট লেনে উন্নীত করা হয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল হওয়ায় এ সড়কের ওপর যানবাহন এবং পণ্যবাহী পরিবহনের চাপ ক্রমশ বাড়ছে। এ মহাসড়কে কাঁচপুর, মেঘনা ও গোমতী সেতু তিনটি বাড়তি যানবাহনের চাপ মোকাবিলা করতে পারছে না। এ বাস্তবতায় সরকার জাইকার অর্থায়নে তিনটি সেতুর পাশে আরও নতুন তিনটি সেতু নির্মাণকাজ শুরু করেছে। ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বিবেচনায় নিয়ে সরকার সদ্যসমাপ্ত চার লেন মহাসড়কের পাশাপাশি ঢাকা-চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের প্রস্তুতিমূলক কাজ ইতোমধ্যে শুরু করেছে।