২৫ কোটি টাকায় মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র হচ্ছে চাঁদপুরে

চাঁদপুরে নির্মিত হবে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রচাঁদপুরে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের মাধ্যমে ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র তৈরি করতে যাচ্ছে সরকার। পদ্মা-মেঘনা ও ডাকাতিয়ার মিলনস্থলে চাঁদপুর মাছঘাটে এই কেন্দ্রটি হতে যাচ্ছে। দুই বছরের মধ্যে এই কেন্দ্র নির্মাণের কাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কেন্দ্রের কাজ শেষ হলে চাঁদপুরের ইলিশসহ সব ধরনের মাছ সংরক্ষণে আধুনিক সুবিধার সৃষ্টি হবে এবং জেলা ব্র্যান্ডিং আরও এগিয়ে যাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।  

মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) দিলদার আহমদ প্রস্তাবিত স্থানটি বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রুয়ারি) ঘুরে গেছেন। এ সময় তিনি চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আব্দুস সবুর মন্ডল, মৎস্য কর্মকর্তা সফিকুর রহমান ও মৎস্য বণিক সমিতির নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় চেয়ারম্যানের সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের পরিচালক (ক্রয় ও বিপনন) মো. আব্দুল মতিন, ব্যবস্থাপক (পরিকল্পনা) মো. তোজাম্মেল হোসেনসহ কর্মকর্তারা।

চেয়ারম্যান দিলদার আহমদ সাংবাদিকদের জানান, রেলওয়ের প্রায় ৪০ শতাংশ জমিতে যেখানে এখন মাছঘাট রয়েছে সেখানেই এই বহুতল ভবনের অবতরণ কেন্দ্রটি নির্মিত হবে। চারতলা বিশিষ্ট অত্যাধুনিক এই অবতরণ কেন্দ্রে একটি আধুনিক হিমাগার, কোল্ডস্টোরেজ,  বরফকল এবং মাছ আনা-নেওয়ার জন্য দুটি লরি থাকবে।

তিনি আরও বলেন, ‘চাঁদপুরের জেলা প্রশাসকের প্রস্তাবনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই কেন্দ্রটি করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। আগামী দুই বছরের মধ্যেই আমরা এটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করতে পারবো। এই অবতরণ কেন্দ্রটি হলে চাঁদপুরের ইলিশসহ সব ধরনের মাছ সংরক্ষণে আধুনিক সুবিধার সৃষ্টি হবে।’

চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আব্দুস সবুর মন্ডল বলেন, ‘আধুনিক এই অবতরণ কেন্দ্রটি নির্মিত হলে ইলিশের বাড়ি চাঁদপুরের ব্র্যান্ডিং কাজও এগিয়ে যাবে অনেক দূর। বর্তমান সরকার তথা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, এখানকার রাজনৈতিক, সামাজিক এবং মৎস্য ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতায় এটি আমরা পেতে যাচ্ছি। এটি নির্মিত হলে পদ্মা-মেঘনার ইলিশ আরও বেশি পরিমাণে সংরক্ষণ করা যাবে। মাছ নষ্ট হবে না।’

চাঁদপুরের মৎস্য কর্মকর্তা সফিকুর রহমান বলেন, ‘প্রতি বছরই রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বিপুল পরিমাণ মাছ এখানে নষ্ট হয়। হাতের কাছেই এতো বড় বাজারে যেখানে কয়েকটি জেলার ইলিশ মাছসহ বিভিন্ন জাতের মাছ আসছে, সেগুলো সংরক্ষণ করতে বেকায়দায় পড়েন ব্যবসায়ীরা। এছাড়া জায়গাটিও সব সময় স্যাঁতস্যাঁতে থাকে। এতে করে মৎস্য ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের বিড়ম্বনায় থাকতে হয়।’

মৎস্য বণিক সমিতির সদস্য ও মৎস্য আহরণকারী শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্টরাও এ কেন্দ্র নির্মাণ হওয়ার খবরে সন্তোষ প্রকাশ করছেন।