কক্সবাজারে রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত

কক্সবাজার



বিএনপি’র চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মামলার রায়কে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে কক্সবাজারের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। এ কারণে রায়কে ঘিরে যে কোনও ধরণের বিশৃঙ্খলতা রোধে আইন-শৃংখলা বাহিনীর পাশাপাশি মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ।

অন্যদিকে বিএনপি বলছে,‘এ রায় পূর্ব-নির্ধারিত। রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রমূলক রায়ের বিরুদ্ধে কেন্দ্রের নিদের্শনা অনুযায়ী গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ সকল কর্মসূচি পালন করতে আমরা প্রস্তুত রয়েছি।’

আগামীকাল রায়কে ঘিরে কক্সবাজার শহরসহ জেলাব্যাপী নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুলিশসহ আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা বুধবার সকাল থেকে টহল জোরদার করেছে। মঙ্গলবার থেকে কক্সবাজার জেলা বিএনপির কার্যালয়ে ঘিরে অবস্থান করতে দেখা গেছে বেশকিছু সংখ্যক পুলিশ সদস্যকে। তবে সেখানে বিএনপির কোনও নেতাকর্মীকে দেখা যায়নি। জেলা পুলিশের দাবি, নাশকতাসহ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত করার অপচেষ্টার অভিযোগে এ পর্যন্ত ২৮ জনকে আটক করা হয়েছে। যার মধ্যে ২২ জন বিএনপি এবং ৬ জন জামায়াত নেতা রয়েছেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা বলেন,‘রায়ে কি হবে না হবে সেটি আদালতের এখতিয়ার। কিন্তু আদালতের রায় অমান্য করে কেউ যদি বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করে তাহলে আমরাও বসে থাকবো না। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা রাজপথে থাকবো। কোনও মতেই দুষ্কৃতিকারীদের ছাড় দেবো না।’

কক্সবাজার পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মো. আলী বলেন,‘আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রথম থেকেই আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়া আদালতের প্রতি সম্মান দেখিয়ে হাজিরা দিয়ে আসছেন। সঠিক বিচার হলে খালেদা জিয়া অবশ্যই এই মামলা থেকে খালাস পাবেন। তবে আমাদের সন্দেহ তিনি সঠিক বিচার পাবেন কিনা না? আমাদের নেত্রীর কিছু হলে বিএনপি নেতাকর্মীদের নিয়ে আমরা মাঠে থাকব।’

বিনা কারণে বিএনপি'র নেতাকর্মীদের আটকের কথা উল্লেখ করে রাশেদ মো.আলী আরও বলেন,‘এরইমধ্যে আমাদের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। বাড়িতে বাড়িতে অভিযান চালাচ্ছে। সেখানে তাদের না পেলে ধরে নিয়ে আসা হচ্ছে স্বজনদের। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে আমাদের নেতাকর্মীদের আটক করছে। আগেও আটক করে নির্যাতন করেছে এখনও করছে। রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রমূলক রায়ের বিরুদ্ধে কেন্দ্রের নিদের্শনা অনুযায়ী গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণভাবে সকল কর্মসূচি পালন করতে আমারা প্রস্তুত রয়েছি।’

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছিুক জেলা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, নাশকতাসহ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত করার  চেষ্টার অভিযোগে এ পর্যন্ত ২৮ জনকে আটক করা হয়েছে। যার মধ্যে ২২ জন বিএনপি এবং ৬ জন জামায়াত নেতা রয়েছেন।

জানতে চাইলে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফরুজুল হক টুটুল বলেন, ‘আইন শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে জেলা পুলিশ সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। যে কোনও ধরণের বিশৃঙ্খলা রোধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিক মাঠে থাকবে।’

আরও পড়ুন: সহপাঠীকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় দাখিল পরীক্ষার্থীকে কুপিয়ে জখম