সিজারে দ্বিখণ্ডিত: তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন দাখিল

কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল (ফাইল ছবি)কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (কুমেক) জুলেখা বেগম নামে এক নারীর সিজারের সময় নবজাতককে দ্বিখণ্ডিত করার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। সোমবার (২ এপ্রিল) ওই হাসপাতালের পরিচালক ডা. স্বপন কুমার অধিকারী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সূত্র জানায়, গত ২৫ মার্চ বিকালে কুমেকের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক তারেক আবদুল্লাহকে প্রধান করে তিন সদস্যের ওই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন- সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ইয়াহিয়া এবং গাইনি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শায়েলা নাজনীন। তবে তদন্ত প্রতিবেদনের ফলাফলের বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক কোনও মন্তব্য করবেন না বলে জানান।
কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. স্বপন কুমার অধিকারী বলেন, ‘এ ঘটনাটি তদন্তে গঠিত ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন রবিবার বিকালে হাতে পেয়েছি, তবে এর ফলাফল এখনই জানানো সম্ভব নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আগামী ৪ এপ্রিল উচ্চ আদালতে হাজির হয়ে এ বিষয়ে আমাদের বক্তব্য দেওয়াসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি আমরা নিচ্ছি।’
কুমিল্লা সিভিল সার্জন ডা. মজিবুর রহমান বলেন, তদন্ত কমিটির রিপোর্ট নিয়ে আমি বলতে পারবো না। তবে হাইকোর্টের জবাব দেওয়ার জন্য আমি প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শেষ করেছি। মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সঙ্গে সমন্বয় করেই আমরা কাজ করছি।’
প্রসঙ্গত, গত ১৭ মার্চ রাতে জেলার মুরাদনগর উপজেলার যাত্রাপুর গ্রামের সফিক কাজীর স্ত্রী জুলেখা বেগম (৩০) প্রসব বেদনা নিয়ে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। পরদিন দুপুরে গাইনি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. করুনা রানী কর্মকারের নেতৃত্বে ডা. নাসরিন আক্তার পপি, ডা. জানিবুল হক, ডা. দিলরুবা শারমিন ও ডা. আয়েশা আফরোজ তার অপারেশন করেন।
অপারেশনে নবজাতকের মাথা বিচ্ছিন্ন এবং জুলেখার জরায়ু কেটে ফেলার সংবাদ গত ২৫ মার্চ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এতে ওইদিনই মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আসাদুজ্জামান, ব্যারিস্টার ফারহানা ইসলাম খান, আনিসুল হাসান ও সেগুফতা তাবাসসুম আহমেদ আদালতে এক রিট পিটিশন দাখিল করেন। পরে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক, কুমিল্লার সিভিল সার্জন, গাইনি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. করুনা, পপি, জানিবুল হক, দিলরুবা ও ডা. আয়েশা আফরোজকে আগামী ৪ এপ্রিল আদালতে হাজির হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা এবং একইসঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কেন কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়।