প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার বলেন, ‘এ হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নকারী হিসেবে অ্যাড. জহিরুল ইসলাম এবং তার দ্বিতীয় স্ত্রী জুলেখা বেগমের সম্পৃক্ততার বিষয়ে আমাদের কাছে তথ্য-উপাত্ত রয়েছে। সেগুলো আমরা যাচাই-বাছাই করে দেখছি। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এখন এর বেশি কিছু বলা যাচ্ছে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত একজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডটি সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আপনাদের সহযোগিতা চাই। কেউ বিভ্রান্তিমূলক তথ্য দিবেন না। আমরা চাই এমন নিষ্ঠুর-নির্মম হত্যাকাণ্ডের সঠিক তদন্ত এবং প্রকৃত খুনির বিচার হোক।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) মো. মিজানুর রহমান, ডিবির ওসি আল মামুন, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকবাল হোসেন পাটোয়ারী, সাধারণ সম্পাদক মির্জা জাকিরসহ চাঁদপুরে কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা।
উল্লেখ্য, গত ৪ জুন সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার গল্লাক ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ শাহীন সুলতানা ফেন্সির (৫০) রক্তাক্ত লাশ চাঁদপুর শহরের পাকা মসজিদ এলাকায় তার নিজ বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তার স্বামী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাড. জহিরুল ইসলাম ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী জুলেখাকে আটক করা হয়। পরদিন ৫ জুন ৪ জনের নাম উল্লেখ করে চাঁদপুর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন ফেন্সির ভাই ফোরকান উদ্দিন খান। পরে তাদের ওই মামলার আসামি হিসেবে গ্রেফতার দিয়ে রিমান্ডে নেয় পুলিশ।
পরে পুলিশ তদন্তের মাধ্যমে গ্রেফতার করে জুলেখার চাচাতো ভাই ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র রাকিবুলকে। এরপর মঙ্গলবার চাঁদপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের একজন বিচারকের উপস্থিতিতে রাকিব জবানবন্দিতে জানিয়েছে, সে এবং আরেক চাচাতো ভাই লিমন টাকার বিনিময়ে ফেন্সিকে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডের সময় রাকিব ফেন্সির পা চেপে ধরে আর অন্যরা মাথায় আঘাত করে।