ভুল চিকিৎসার অভিযোগ: নিভে গেল শিশু রাইফার জীবনপ্রদীপ

রাইফা। অভিযোগ রয়েছে ভুল চিকিৎসায় শনিবার তার মৃত্যু হয়।

ভুল চিকিৎসায় চট্টগ্রাম নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে রাইফা খান (০৩) নামে এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (২৯ জুন) রাতে চট্টগ্রাম নগরীর ম্যাক্স হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।

রাইফা দৈনিক সমকালের চট্টগ্রাম ব্যুরোর সিনিয়র প্রতিবেদক রুবেল খানের মেয়ে। এ ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার বিকেল ৪টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বরে মানববন্ধনের ঘোষণা দিয়েছে সাংবাদিক ইউনিয়ন। 

এদিকে রাইফার মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনার পরপরই সাংবাদিকরা হাসপাতালে ছুটে যান। এসময় সাংবাদিকদের দাবির মুখে কর্তব্যরত চিকিৎক ও নার্সকে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। অবশ্য পরে এক চিকিৎসক নেতার হস্তক্ষেপে তাদের ছেড়ে দেয় পুলিশ। ঘটনার পর ওই চিকিৎসক নেতা সাংবাদিকদের সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন।

রুবেল খানের প্রতিবেশী দৈনিক ইত্তেফাকের সিনিয়র রিপোর্টার শামীম হামিদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ঠাণ্ডা লেগে গলা ব্যথা করায় বৃহস্পতিবার বিকেলে রাইফাকে ম্যাক্স হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। ওই রাতে রাইফাকে অ্যান্টিবায়েটিক দেওয়া হলে সে অস্বস্তিবোধ করে। বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানালে তারা শিশু বিশেষজ্ঞকে ডাকার পরামর্শ দেন। পরে ওই হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার বিধান চন্দ্র রায় এসে একই ধরনের ওষুধ দেন। ওই ওষুধ খাওয়ার পর রাইফার খিঁচুনি শুরু হয়। শিশুটির অবস্থার অবনতি ঘটলে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. বিধান চন্দ্র রায়ের সঙ্গে কথা বলে তাকে ' সেডিল' ইনজেকশন পুশ করা হয়। এরপর রাইফার মৃত্যু হয়।

সাংবাদিক বাবার সঙ্গে শিশু রাইফা

শনিবার জোহরের নামাজের পর চট্টগ্রাম নগরীর গরীবুল্লাহ শাহ মাজার চত্বরে রাইফার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর গরীবুল্লাহ শাহ কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়। 

চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম বলেন, ম্যাক্স হাসপাতালের ঘটনায় রাতেই এক চিকিৎসকসহ ৩ জনকে থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে সাংবাদিক ও চিকিৎসক নেতাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। দুই পক্ষের মধ্যস্থতার পর আটককৃতদের ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনও মামলা দায়ের করা হয়নি বলে তিনি জানান।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী বলেন, সাংবাদিক কন্যার মৃত্যুর ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঘটনার বিস্তারিত জানতে আমি নিজে ম্যাক্স হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেছি। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।