মর্তুজা মিয়া ডাক বিভাগের কর্মচারী ছিলেন।
মর্তুজা মিয়ার প্রথম পক্ষের মেয়ে মরিয়ম আক্তার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘২০০০ সালে আমার মায়ের মৃত্যু হলে বাবা মারজাহান বেগমকে বিয়ে করেন। তবে প্রায়ই বাবার সঙ্গে আমার সৎ মায়ের ঝগড়া লেগে থাকতো। গত বৃহস্পতিবার রাতে তার নামে সম্পত্তি লিখে দিতে অনেক চাপ দেন সৎ মা। শুক্রবার (২৯ জুন) সকালে বাবা গ্রামের মানুষকে বিষয়গুলো জানান। এরপর দুপুর আড়াইটার দিকে সৎ মা আমার ছোট ভাইকে বলেন, “তোর বাবাকে সকাল ১১টা থেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।” এরপর আমার বড় ভাবি (প্রথম পক্ষের ছেলের স্ত্রী) বাবার খোঁজে এলাকায় মাইকিং করান, থানায় জিডিও করেন। আমরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও বাবার কোনও খোঁজ পাইনি। সর্বশেষ শনিবার দুপুরের দিকে গ্রামের লোকজন বাবার মরদেহ পুকুরে ভেসে উঠতে দেখেন।’
মরিয়র আক্তারের অভিযোগ, তার বাবার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তার দাবি, ‘বাবাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর এভাবে লাশ ফেলে রাখা হয়েছে। আমি এ ঘটনায় জড়িতদের বিচার চাই।’
তবে মর্তুজা মিয়ার দ্বিতীয় স্ত্রী মারজাহান বেগম এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘এগুলো সব মিথ্যা কথা। আমার স্বামী শুক্রবার সকালে শাপলা তুলতে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর থেকে তার কোনও খোঁজ পাইনি। শনিবার দুপুরে পুকুরের মধ্যে লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয় লোকজন চিৎকার করলে আমরা ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। এছাড়া আমি আর কিছুই বলতে পারবো না।’
মনোহরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘শুক্রবার নিখোঁজের ঘটনায় ওই বৃদ্ধের প্রথম পক্ষের ছেলের স্ত্রী থানায় একটি জিডি করেছিল। শনিবার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্তের আলোকে এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’